বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের দাম অনেকটাই কমে গেছে। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দর এখন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের চেয়েও কম। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মূল্যস্ফীতিও অনেকটা কমিয়ে এনেছে। কিন্তু বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো চড়া।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে আমদানি খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খায় বাংলাদেশ। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, তৎকালীন সরকারের ভুল নীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল।
বাংলাদেশের অর্থনীতির পতন ঠেকিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মূল্যস্ফীতিও কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যা ১১.৬৬ শতাংশ ছিল, তা এখন সাড়ে ৮ শতাংশ। কিন্তু প্রতিবেশীদের তুলনায় মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক বেশি।
বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের মূল্য বেশি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের দামকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে যে ডলার ৮৬ টাকা ছিল, এখন তা ১২২ টাকা।
অবশ্য অর্থনীতিবিদেরা এ-ও বলছেন, ডলারের মূল্য বিবেচনায় নিয়েও দেশের বাজারে পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ আছে। আমদানি বাড়লে, প্রতিযোগিতা বাড়লে এবং কার্যকর তদারকি থাকলে দাম কমবে। সরকারও কিছু ক্ষেত্রে দাম কমাতে পারে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে এলপিজির সিলিন্ডারের দর ১ হাজার ২৭৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু তদারকির অভাবে সেই দর কখনোই কার্যকর হয়নি। ঢাকায় এখন এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে দেড় হাজার টাকার মতো খরচ করতে হয়।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দর আগের চেয়ে ৪৪ শতাংশ কম। কিন্তু দেশে দর কমেছে মাত্র ১৭ শতাংশ। বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ানো দরকার।
দাম কমানোর সুযোগ আছে জ্বালানি তেলের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দর ছিল ৯৬ ডলার, যা বেড়ে ১১৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। এখন সেই দর কমে ৬৭ ডলারে নেমেছে। কিন্তু দেশে ডিজেলের দাম খুব একটা কমেনি। বর্তমান দর ১০২ টাকা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এখন জ্বালানি তেলে মুনাফা করছে। সরকারও শুল্ক–কর বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশে দাম অনেক বেশি থাকায় পাচার এড়ানোর কথা বলে দাম কমানো হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী শক্তিশালী সংকেত দেওয়া হয়নি। অলিগার্করা (মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী) আগের মতোই রয়ে গেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চালের দাম ধারাবাহিকভাবে বেশি। সেখানে কি একটা দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে?
(দৈনিক প্রথম আলো থেকে সংক্ষেপিত)


