বাংলাদেশের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার ১০ দিনের সফরে চীন গেছে। এই দলে রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকেরা রয়েছেন। প্রতিনিধি দলের এক নেতা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, তাঁরা চীন সরকার ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। এই সফরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি-র জ্যেষ্ঠ নেতা আব্দুল মঈন খান। প্রতিনিধি দলের অধিকাংশই বিএনপি ও তাদের জোটের সদস্য। প্রতিনিধি দলে গত বছরের জুলাই-আগস্টে হয়ে যাওয়া গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদেরও প্রতিনিধি আছেন।
হাসিনার পতনের পর চীন বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও প্রতিনিধি দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করেছে, যার মধ্যে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এর আগে, গত বছরের শেষ দিকে বেইজিং বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছিল। এই সফরের আগে জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে অন্তর্বতী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং ভারতীয় প্রভাবের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীন বাংলাদেশে তার অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে চীনই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগই চীনের রপ্তানি। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ৭০ শতাংশের বেশি আসে চীন থেকে। অন্যদিকে, চীনের তৎপরতার তুলনায় ভারত গত ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম যোগাযোগ করেছে।
১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় হাসিনার সরকার দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। সমালোচকদের মতে, তিনি ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গেও কৌশলগত ভারসাম্য রেখেছিলেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাংলাদেশকে চীনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে এটি দেখা যাচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশড়শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপালের মতো বাংলাদেশও এখন দিল্লি ও বেইজিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বেইজিংয়ের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও চীনা বিশ্লেষক ঝোউ বো বিবিসিকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে, ভারতের পুরো উপমহাদেশকে নিজেদের প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’


