রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বুধবার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত মৎস্য সপ্তাহের সেমিনারে জানানো হয়, দেশের মাছের উৎপাদন গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮–১৯ অর্থবছরে দেশের মোট মাছের উৎপাদন ছিল ৪২ দশমিক ৭৭ লাখ টন। তবে ২০২৩–২৪ সালে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ টনে, যা পাঁচ বছরে ৭ দশমিক ৪১ লাখ টন বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার বলেন, “আমরা প্রাকৃতিকভাবে এমন স্থানে অবস্থান করি, যেখানে মাছ না খেয়ে বাঁচার উপায় নেই। দেশের ৬৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বিএফআরআইয়ের গবেষণার মাধ্যমে ৪১ প্রজাতির মাছ পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গবেষণা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ সুরক্ষিত ও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
মো. মশিউর রহমান উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ৬৬৯টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে, যাদের মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ১৬৯ হেক্টর। তিনি বলেন, এই অভয়াশ্রমগুলোতে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম দেশের মাছ উৎপাদনের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন জানান, মন্ত্রণালয় এখন থেকে নিজেরাই নতুন অভয়াশ্রম ঘোষণা করতে পারবে। এই উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অভয়াশ্রম সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দেশের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মৎস্য সপ্তাহের এই সেমিনার দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


