বিএনপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল। আনুপাতিক নির্বাচন না চাইলেও এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিও এ দাবিতে সমর্থন দিচ্ছে।ভোটের অনুপাতে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাবে বিএনপিকে রাজি করাতেই এই চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দলগুলোর সূত্রে দৈনিক সমকাল জানিয়েছে।
সংস্কারের চলমান সংলাপে দরকষাকষির কৌশল হিসেবে সংসদের নিম্নকক্ষে প্রচলিত আসনভিত্তিক নির্বাচনের পরিবর্তে পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছে তারা। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাব বিএনপি মেনে নিলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলো নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে আসবে।
আনুপাতিক উচ্চকক্ষ না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি না হওয়া কিংবা নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলগুলোর।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব ছিল — প্রচলিত পদ্ধতিতে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যত শতাংশ ভোট পাবে, উচ্চকক্ষেও ততগুলো আসন পাবে। অর্থাৎ, কোনো দল নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট পেলে, উচ্চকক্ষে ১০টি আসন পাবে।
জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দল এই প্রস্তাবে রাজি। কিন্তু বিএনপি রাজি হয়নি। বিএনপি চায়, বর্তমানে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন যেভাবে নির্ধারণ হয়, উচ্চকক্ষের আসনও সেভাবে অর্থাৎ দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে বণ্টন করা হবে।
ঐকমত্য কমিশন এবং অন্যান্য দল মনে করে, বিএনপির প্রস্তাব মানলে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। সরকারি দল যাতে চাইলেই সংবিধান বদল করতে না পারে, তার জন্য আনুপাতিক উচ্চকক্ষের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান এফপিটিপি পদ্ধতিতে ছোট দলগুলো কিছু ভোট পেলেও সংসদে আসন পায় না। সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অনেক দল আনুপাতিক উচ্চকক্ষের দাবীকে সমর্থন করছে।
জামায়াত গত মার্চে ঐকমত্য কমিশনে যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে নিম্নকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি ছিল না। এখন তারা এই দাবি করছে।
এনসিপি শুধু আনুপাতিক উচ্চকক্ষ চায়। নিম্নকক্ষে পিআর চায় না। একই অবস্থান এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের। যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির শরিক জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও আনুপাতিক পদ্ধতির উচ্চকক্ষ চাইছে।
একাধিক আলোচনা, দরকষাকষির পরও বিএনপি তার অবস্থান বদল না করায় এখন জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল পুরো নির্বাচনই পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবি করছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে এই দলগুলো মিলে বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতারও চেষ্টা চালাচ্ছে।


