কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অন্য দলগুলোর মধ্যে। অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশে পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে বলে তারা মনে করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা। সেজন্য তারা ইসলামপন্থিদের ঐক্য বা একটি জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করছেন। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় নেতা বা পীরদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতের সম্পর্কের দূরত্ব ছিল। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জামায়াত অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। জামায়াত নেতারা ঐক্যের ব্যাপারে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
তবে ঐক্যের ব্যাপারে দলটির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে বলে অন্য ইসলামি দলগুলোর নেতারা মনে করছেন। কারণ এখন ঐক্য তৈরি প্রক্রিয়ায় জামায়াত অংশ নিচ্ছে না। জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, কোনো জোটে না গিয়ে জামায়াত স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চায়। এবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার চিন্তা তাদের মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামপন্থিসহ বিভিন্ন দলকে কাছে রেখে নিজেদের একটা বলয় তৈরির চিন্তা নিয়েও এগোচ্ছে দলটি। আর এমন চিন্তার ক্ষেত্রে জামায়াত গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনসহ পাঁচটি দল তাদের ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। ইসলামি দলের বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ ও ডানপন্থি কিছু দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ইসলামি দলগুলোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সংগঠন বা ফোরামের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থানের জানান দিতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। হেফাজতও ঢাকায় জমায়েত করে তারা নতুন করে তাদের অবস্থানের একটা বার্তা দিতে চাইছে।বিএনপি নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বাইরেও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলকে কাছে রাখতে চাইছে বিএনপি। সেজন্য তারা আলোচনাও চালাচ্ছে। আর এসব দলকে কাছে রেখে জোটবদ্ধ না হয়ে একটা বলয় তৈরির ক্ষেত্রেও আসন দিতে হবে বিএনপিকে। দলটি সে ধরনের সমঝোতায়ও যেতে পারে বলে মনে হয়েছে।
নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর নেতাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তাদের জেতার সম্ভবনা থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোর বেশিরভাগই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে এবং তাতে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোটের হার কম থাকলেও ইসলামপন্থি দলগুলো সঙ্গে থাকলে এরও একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এসব বিবেচনায় এবার বিএনপি ও জামায়াত তাদের পৃথকভাবে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে।


