দৈনিক প্রথম আলো জানিয়েছে — বিএনপি ও এনসিপির পৃথক কর্মসূচি হঠাৎ করেই রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ তৈরি করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমেছেন ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র করার দাবি সামনে রেখে। এরপর এনসিপি কর্মসূচি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে। দল দুটির দাবি ভিন্ন ভিন্ন হলেও এটাকে কার্যত পাল্টাপাল্টি বা ছায়াযুদ্ধ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপি ইশরাকের ইস্যুতে জয়ী হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি ধাক্কা দিতে চায়—যার চূড়ান্ত লক্ষ্য দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আদায় করা। পাশাপাশি এনসিপির ওপরও একটা রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায়। কারণ, বিএনপির নেতারা মনে করেন, এনসিপি একের পর এক ইস্যু সামনে এনে নির্বাচন পেছাতে চায়।
ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিকে ঘিরে এক সপ্তাহ ধরে টানা কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিএনপি মৌলিক সংস্কার পাশ কাটিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন চায়। তারা ইশরাক হোসেনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করতে চাইছে। এর পাল্টা বিএনপির ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করতে ইসির সামনে বিক্ষোভ করে এনসিপি।
এনসিপির শীর্ষ ও মধ্যম সারির অন্তত পাঁচজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ইশরাকের বিষয়টিকে অজুহাত করে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শিক্ষার্থীদের দুই প্রতিনিধিকে (আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম) সরাতে চাইছে। এর প্রতিক্রিয়ায় এনসিপিও অন্য তিন উপদেষ্টাকে ‘বিএনপিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিএনপির নেতাদের সন্দেহ, সরকারের ভেতরে-বাইরে একাধিক গোষ্ঠী জাতীয় নির্বাচন পেছাতে চায়। এনসিপিও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের ধারণা। তাই ইশরাক ইস্যুতে বিএনপি একই সঙ্গে সরকার ও এনসিপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


