মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্যের কারণে বুধবার থেকে সরকারি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই শাটডাউনের ফলে দীর্ঘ ও জটিল অচলাবস্থা শুরু হয়েছে, যা দেশজুড়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফেডারেল কর্মীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
১৯৮১ সালের পর এটি মার্কিন সরকারের ১৫তম শাটডাউন। সরকারি সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বেতন না পাওয়ার কারণে ফেডারেল কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে। সামরিক বাহিনী, সীমান্ত রক্ষী এবং জরুরি সেবায় নিযুক্ত কর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও শাটডাউনের অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বেতন পাবেন না।
অর্থনৈতিক প্রভাবও মারাত্মক। শাটডাউনের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে। এছাড়াও সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ স্থগিত থাকবে, বিমান চলাচল ধীর হবে, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ হবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় ওয়াল স্ট্রিটে ফিউচার চুক্তির দাম কমেছে। স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ডলারের মান এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সিনেটে স্বল্পমেয়াদী অর্থায়ন বিল প্রত্যাখ্যান হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শাটডাউন কার্যকর হয়। এই বিলটি ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ দিত। তবে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু স্বাস্থ্যখাত। ডেমোক্র্যাটরা চান বাজেট পাশের সঙ্গে সঙ্গে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর ভর্তুকি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত হোক। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মনে করেন, এ বিষয়টি বাজেট থেকে আলাদা আলোচনা হওয়া উচিত।
মার্কিন সরকারের মোট ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার এখন অচলাবস্থার মুখে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই শাটডাউন অতীতের বাজেট-সংক্রান্ত অচলাবস্থার তুলনায় দীর্ঘ হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা সরকারি কর্মসূচিতে কাটছাঁট এবং স্থায়ী ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সিনেট নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের ‘জোর খাটানোর’ চেষ্টার সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, ‘তারা সফল হবে না।’ অন্যদিকে সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন এই অচলাবস্থার পেছনে কোনো বাস্তবিক কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর অধ্যাপক রবার্ট পেপ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের জন্যই সমঝোতায় আসা কঠিন হবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৫ দিন ধরে চলা শাটডাউন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম।


