ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ১৭ নভেম্বর দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত একটি সূত্রে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। এটি ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় পরিবর্তন। সূত্র অনুযায়ী, ইউক্রেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রথমে দূরপাল্লার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে অভিযান-সংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণে হামলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে এটিএসিএমএস নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাতে কিয়েভ নিজ সীমান্তের বাইরে হামলা করতে পারে।
রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় ঘোষণা দিয়ে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেরাই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে।’ হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তারা পূর্বে সতর্ক করেছিল যে, ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে তা বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে।
রাশিয়ার সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির উপপ্রধান ভ্লাদিমির জাবারভ সতর্ক করেছেন, ‘ওয়াশিংটন কিয়েভকে রাশিয়ার গভীরে আঘাত করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এই সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা রিচার্ড গ্রেনেল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিদায় নেওয়ার আগে বাইডেন যুদ্ধগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ বাইডেন প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের জয়ের পর অবশিষ্ট সময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান থেকে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরিতে তারা উদ্যোগী।


