বাংলা ট্রিবিউন দিল্লি প্রতিনিধির রিপোর্ট: ভারতে এক শ্রেণির পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আগামী বছরের (২০২৬) মাঝামাঝি নাগাদ দু’দেশের সম্পর্কে উন্নতির সম্ভাবনা আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মার্চ- এপ্রিল মাস নাগাদ। বাংলাদেশেও নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে হয়ে যাবে বলে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুকল্যাণ গোস্বামী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচন ভারতের শাসক দল বিজেপির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। …বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ধুয়ো তুলে এবং সে দেশে ইসলামী মৌলবাদের প্রসারের কাহিনী প্রচার করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে যে ধরনের হিন্দু – মুসলিম মেরুকরণের হাওয়া তোলা সম্ভব হয়েছে, সেটা বিজেপিকে এই দুটি রাজ্যের নির্বাচনে ফায়দা দেবে।
ফলে বিজেপি চাইবে আরও অন্তত বছরখানেক বা সোয়া বছর এই উত্তেজনা বা বিদ্বেষ জিইয়ে থাকুক।…এ কারণে এই প্রচারণা চট করে থামবে না। ভারতের মূল ধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যমেও আমরা এখন সেটারই প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’ এই পর্যবেক্ষকের মতে, ভারতবিরোধিতার জিগিরটা জারি রাখা বাংলাদেশেও কোনও কোনও রাজনৈতিক শক্তির জন্য লাভজনক। ফলে তারাও হয়তো চাইবেন না ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই সহজ ও স্বাভাবিক হোক! তিনি মনে করেন, সীমান্তের দুই পারে দুই ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতাই দুদেশের সম্পর্ককে এখনই সহজ হতে দেবে না বলে ভারতের অনেকে মনে করছেন। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে ও সেই সঙ্গে আসাম পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব মিটে গেলে হয়তো আবার বাস্তবতা অন্য রকম হবে।
ভারতের রাজধানীতে যে কূটনৈতিক সাংবাদিকরা সাউথ ব্লক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কভার করেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর জন্য ভারতের পক্ষ থেকেও বিশেষ একটা সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা দেখা যায়নি। সীমান্তে ছোটখাটো উত্তেজনার ফুলকি কিংবা দুই দেশে পারস্পরিক ধর্মীয় মেরুকরণকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা দুদেশেরই আছে বলে তারা অনেকেই মনে করছেন।


