বাংলাদেশ থেকে নারীদের শ্রম অভিবাসন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে-ভাষাগত সমস্যা, দক্ষতার অভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি। সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নারী শ্রমিকদের অভিবাসন ৪২ শতাংশ কমে গেছে। ২০২২ সালে ১,০৫,৪৬৬ নারী শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন; ২০২৪ সালে এই সংখ্যা নেমে আসে ৬১,১৫৮ জনে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, কারণ তারা ভাষার বিষয়ে দুর্বল এবং অন্য দেশগুলোর শ্রমিকদের চেয়ে কম দক্ষ। এ ছাড়া, উচ্চ অভিবাসন খরচ এবং অধিক পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে নিয়োগদাতা এজেন্টরা নারী শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহ হারিয়েছে।
বাংলাদেশি নারীরা সাধারণত গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দর্জি, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে বিদেশে যান।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসন খাতে নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সরকারকে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পুনঃমূল্যায়ন করা উচিত। বর্তমানে, নারীদের বিদেশে কাজের জন্য কমপক্ষে দুই মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য দেশগুলোর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনও নারীদের অভিবাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০০৪ থেকে ২০২৪ এই দুই দশকে বাংলাদেশ থেকে ১১,৬২,৭৯১ জন নারী শ্রমিক বিতদশে কাজে গেছেন। এই ২০ বছরে মোট ১,২৫,২৪,২৯৮ জন অভিবাসী শ্রমিক বিদেশে গেছেন।


