বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর বিষয়ে আগ্রহী অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের ভাষ্য, স্টারলিংক এলে ইন্টারনেট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ (শাটডাউন) করার সুযোগ কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে না। যদিও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্টারলিংককে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর শর্ত মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। খাত – সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খসড়া নীতিমালা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হলে পরিস্থিতির খুব বেশি হেরফের হবে না। বিগত সরকারগুলোর মতোই ধনকুবের ইলন মাস্কের উচ্চগতির এ ইন্টারনেট সেবা সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
আর দেশের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা (আইএসপি) স্টারলিংকের আগমনকে তাদের প্রচলিত ব্যবসার জন্য হুমকি মনে করছেন। তারা বলছেন, এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশ রুদ্ধ হয়ে যাবে। টাকা চলে যাবে বিদেশে। যদিও মোবাইল অপারেটররা স্টারলিংকের আগমনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে বিশ্লেষকরা স্টারলিংককে শুধুই ইন্টারনেট সেবা হিসেবে দেখছেন না। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ইলন মাস্কের সঙ্গে বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেই অন্তর্বর্তী সরকার স্টারলিংক নিয়ে আগ্রহী হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্টারলিংক প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে। ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয়। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপিত হাজার হাজার স্যাটেলাইটের সমষ্টি হচ্ছে স্টারলিংক।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে স্টারলিংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভুটান প্রথম স্টারলিংকের সেবা গ্রহণ করে। স্টারলিংক ব্যবহারকারীরা গড়ে ১০০ এমবিপিএসের বেশি গতি পান, যেখানে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গড় গতি ৪০-৫০ এমবিপিএস।স্টারলিংকের প্যাকেজ বেশ ব্যয়বহুল। দেশে একজন গ্রাহক ৫০০ টাকায় মাসজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু স্টারলিংকের সর্বনিম্ন মাসিক খরচ পড়বে ১৫ হাজার টাকা। আবার সংযোগ পেতে যেসব যন্ত্রপাতি গ্রাহককে বসাতে হবে, তার জন্য কমপক্ষে ৪৫ হাজার টাকা লাগবে।


