বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আদান প্রদান বাধানিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এটা দুই বাংলার মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। বাংলাদেশে শান্তি সেনা পাঠানো সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেরও নিন্দা জানিয়েছে এপিডিআর। গত বুধবার দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে এপিডিআর। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
মমতার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এপিডিআর ওই বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উগ্র হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের (জাতিসংঘের) শান্তিবাহিনী পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আরজি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বলপ্রয়োগের চিন্তা নয়, ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা কিছু থাকলে তার সমাধান খোঁজা। অবিলম্বে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসুক ভারত সরকার। তাতে যুক্ত করুক পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও।’
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ১ ডিসেম্বর বিবৃতিতে এপিডিআর বলেছে, ‘শুধু সরকারি বিবৃতি দিয়ে নয়, জাতি ধর্ম নিরপেক্ষভাবে প্রকৃতই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে রক্ষা করুক ইউনূস সরকার এটা এপিডআরের চাওয়া। এপিডিআর মনে করে, ইউনূস সরকার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে ভারতের সাম্প্রদায়িক শক্তি তার পূর্ণ সুযোগ নেবে। তাই সবারই উচিত এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা।’
বিবৃতিতে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ভূমিকারও কড়া নিন্দা করেছে এপিডিআর। তারা লিখেছে, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে ভারত সরকার বা বিজেপির কোনো কিছু বলার নৈতিক অধিকারই নেই। ভারতেও সংখ্যালঘু মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধদের ওপরে লাগাতার নিপীড়ন চলছে। বাদ যাচ্ছে না দলিত, আদিবাসীরাও।’
দুই দেশের সাধারণ মানুষের ওপরে ভরসা রেখে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান প্রদান বাড়ানোর ওপরে জোর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনটি। একই সঙ্গে কোনো দেশেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাড়তে না দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।


