মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্মার্ট কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনা—এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি)। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সঙ্গে এক যৌথ সভায় এ আগ্রহের কথা জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর্নল্ড দ্য নাদায়াক। ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই সভায় এএফডির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তারা।
সভায় দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সম্মত হয় এবং দ্রুত একটি যৌথ ধারণাপত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে কারিগরি সহায়তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে এএফডি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরি ও পাঠ্যক্রম উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন খান বলেন, “ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ফ্যাশন ডিজাইন, হসপিটালিটি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” তিনি কৃষি ও টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এএফডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও তারা আগ্রহী। নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দেন এএফডি প্রতিনিধি দল। অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন জানান, এ বিষয়ে ইউজিসি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করবে, যদিও জনবল ও বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সভায় আরও আলোচনা হয় উচ্চশিক্ষার কৌশলপত্র, আউটকাম বেইজড কারিকুলাম টেমপ্লেট, ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক ও গবেষণা-উদ্ভাবন প্রসঙ্গে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত নতুন এক আন্তর্জতিক সহযোগিতার সুযোগ পাচ্ছে যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।


