২০১৯ সালের শেষদিকে চীনে উদ্ভব হওয়া করোনাভাইরাস ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এরপর দেশে একাধিক দফায় সংক্রমণ ছড়ায়, মৃত্যু হয় হাজারো মানুষের। ২০২৪ সালে দেশে কেউ করোনায় মারা না গেলেও ২০২৫ সালের জুন মাসের শুরুতেই নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশে ২৩ জন আক্রান্ত ছিল, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ জনে, আর জুনের প্রথম আট দিনে নতুন করে ৩৬ জন আক্রান্ত হন। ৫ জুন একজন মৃত্যুবরণও করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে আগের সপ্তাহের তুলনায় সংক্রমণ হার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যদিও সংখ্যাটি এখনও তুলনামূলক কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার পুনরুত্থানের পেছনে মূল কারণ হলো ভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ‘XFJ’ ও ‘XFC’, যা ওমিক্রন JN.১-এর উপশাখা। এগুলোর সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি এবং বেশিরভাগ নমুনায় XFJ ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী ভারতেও ‘NB.1.8.1’ নামে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশেও ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, কিডনি বা ক্যান্সার রোগী ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে টিকা মজুদের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ হলেও, এর মধ্যে ১৭ লাখ টিকার মেয়াদ আগস্টের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অথচ করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সরকারি সিদ্ধান্তও এখনও ঝুলে আছে। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি করোনা পরীক্ষার কিট সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ইতোমধ্যে কিট সংকটে রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ জনের। সুতরাং, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের উচিত অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা, স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালে প্রস্তুতি ও টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করাই হতে পারে ভাইরাস মোকাবেলার কার্যকর পথ। করোনাকে হালকাভাবে নিলে তা আবার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তাই এখনই প্রয়োজন সক্রিয় ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।


