ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল “বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন” নামে একটি নতুন সংগঠন, যেটা বাংলাদেশে বসবাসকারী উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।
গত সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাজিদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সংগঠক সুজিত চৌধুরী, ইউএসপিওয়াইআরএম-এর সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কু, ব্লাস্টের প্রতিনিধি আহমেদ ইব্রাহিম, রিবের অ্যাডভোকেট রুহি নাজ, এবং এএলআরডির অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী।
সভায় সভাপতির সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহনাজ আক্তার যৌথভাবে সংগঠনটির ঘোষণাপত্র ও দাবিনামা তুলে ধরেন। ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের নাগরিক মর্যাদা স্বীকৃত হয়। এই স্বীকৃতির ফলে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটাধিকার পায়, যা তারা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রয়োগ করে আসছে। তবে বাস্তবতা বলছে, দেশে প্রায় তিন লাখ উর্দুভাষী ঢাকাসহ ৯টি জেলার ১১৬টি ক্যাম্পে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছে। এসব ক্যাম্পে পরিধি ও সুবিধার ঘাটতির কারণে এক কক্ষে বহু প্রজন্মকে বসবাস করতে হয়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পয়োনিষ্কাশন, এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে অপর্যাপ্ত।
অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ সভায় বলেন, “উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকার অবহেলা করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়া অসম্ভব। সংবিধান যেভাবে শোভন জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়, উর্দুভাষীরা তা থেকে বঞ্চিত। শাসকগোষ্ঠী বাঙালি-বিহারি বিভাজনের সুযোগ নিয়ে লুটপাটের কৌশল বাস্তবায়ন করেছে, যার নির্মম শিকার হয়েছে এই জনগোষ্ঠী।”
সংগঠনটি আট দফা দাবিনামা উপস্থাপন করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর সম্মানজনক পুনর্বাসন এবং মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্যাম্প উচ্ছেদ বন্ধ, সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তি এবং ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা।
আলোচনা সভার অন্যান্য বক্তারাও উর্দুভাষীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নাগরিক অধিকার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পন্থায় নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করবে।
বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্প্রদায়ের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের জটিল ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও, বর্তমানে তাদের অধিকারের প্রশ্নকে আলাদাভাবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দেশের অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে জনমত গঠন ও নীতিগত পরিবর্তনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।


