দেশে গমের চাহিদার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। চাহিদার বাকি ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গম আমদানিতে ব্যয় ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২০৫ কোটি ডলারের গম আমদানি হয়।
বাংলাদেশে এত দিন সস্তা গমের বড় উৎস ছিল কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। ৩ বছর আগে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এই দুটি দেশ থেকে গম আমদানি ব্যাহত হয়। যুদ্ধের কারণে সে সময় বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশে গম আমদানির বড় উৎস হয়ে উঠেছিল ভারত ও কানাডা।
এখন আবার সস্তা গম আমদানির জন্য রাশিয়ার কাছে ফিরছেন আমদানিকারকেরা। তবে সস্তা গম আমদানির আরেক উৎস ইউক্রেন থেকে আমদানি কমছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের হিসাবে, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) প্রায় ৪৯ লাখ টন গম আমদানি হয়েছে। এ সময় আমদানি হওয়া মোট গমের ৫৪ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে, যাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার।
আমদানিকারকেরা জানান, দাম কম ও সরবরাহ বেশি থাকায় রাশিয়া থেকে গম আমদানি হচ্ছে বেশি। যদিও একক দেশের ওপর বেশি নির্ভরতা নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থার জন্য ভালো নয়। ব্যবসায়ীরা এখন ব্রাজিল থেকেও সস্তায় গম আমদানি শুরু করেছেন।
বাংলাদেশে দুই ধরনের গম আমদানি হয়। প্রথমত কম আমিষযুক্ত গম, যা কেক, বিস্কুটসহ বেকারিশিল্পের পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই গম আমদানি হয় কৃষ্ণসাগর অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ আমিষযুক্ত গম, যা পরোটা, পাস্তা, নুডলস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই গম আমদানি হয় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আবার দুই ধরনের গম মিশিয়ে আটা–ময়দা তৈরি হয়। এর বাইরে প্রাণিখাদ্য হিসেবেও গমের ব্যবহার রয়েছে।
বাংলাদেশে ২০০৮–০৯ থেকে একটানা ৮ বছর গমের শীর্ষ উৎস ছিল কানাডা। দেশটি থেকে উচ্চ আমিষমুক্ত গম আমদানি করা হয়। কানাডার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও উচ্চ আমিষযুক্ত গম আমদানি হয়, তবে পরিমাণে কম।
সস্তা গমের আমদানি বাড়ায় উচ্চ আমিষযুক্ত গমের আমদানি কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি হওয়া গমের মধ্যে ৮২ শতাংশই সাধারণ আমিষযুক্ত গম। কয়েক বছর আগেও উচ্চ আমিষযুক্ত গম আমদানির হার ছিল ৩০ শতাংশ।
আমদানির তথ্যে দেখা যায়, গত এপ্রিলে রাশিয়া থেকে গম আমদানি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩১–৩২ টাকা দামে, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। আবার কানাডা থেকে আমদানি হওয়া উচ্চ আমিষযুক্ত গমের কেজিপ্রতি দাম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা।


