স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদপণ্যসহ অন্তত সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত, যা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এখন থেকে কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়ের নভসেবা (জওহরলাল নেহরু) সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।
তবে বাংলাদেশ থেকে মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল ও পাথর আমদানি অব্যাহত রাখছে ভারত। এছাড়া ভারতের ওপর দিয়ে নেপাল কিংবা ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে ১৭ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার পণ্য।
যেসব দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে, তার মধ্যে ভারত একটি, যেখানে প্রতিবছর প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।
এর মধ্যে ৯৩ শতাংশের মত পোশাক পণ্য স্থলপথেই রপ্তানি হয়। ফলে ভারতের নতুন নিষেধাজ্ঞা এ খাতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দেবে বলে ব্যবসায়ীদের শঙ্কা।
ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি গত কয়েক বছর ধরে বাড়ছিল। এখন ওই এলাকার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন যদি দিল্লি বা অন্য কোনো সমুদ্র বন্দর দিয়ে রপ্তানি করতে হয়, তাহলে পরিবহন খরচ বাড়বে। কারণটা হল, স্থল পথ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে দূরত্ব কম। যে কোনো ছোটো আকারের, ধরেন এক ট্র্যাক পণ্যও পাঠানো যায়। কিন্তু সমুদ্র পথে তা সম্ভব না, খরচ বেড়ে যাবে। আবার সমুদ্র থেকে পণ্য নামিয়ে আবার ট্রাকে নিয়ে সেভেন সিস্টার্সে গেলে অনেক খরচ বাড়বে।”
শাসা ডেনিমস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, “স্থলপথের বাণিজ্যে দুই দেশের লাভ ছিল। সেদেশের জনগণ কম খরচে বাংলাদেশের পণ্য পেত। কিছু পণ্য তো ভারতও (পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে) পাঠাতে পারে না।”
কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই ভারত হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা স্পষ্ট হচ্ছে না বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের কাছে।
তিনি বলেন, “এসব ক্ষেত্রে একটা কারণ তো দেখাতে হয়, নয়ত ডব্লিউটিও কমপ্লায়েন্সের ইস্যু আসবে। আমার ধারণা ওরা দেখাবে সিকিউরিটি গ্রাউন্ড। এই বাণিজ্য চলছে বছরের পর বছর ধরে। এমন কী ঘটনা ঘটছে যার ভিত্তিতে আপনি বলতে পারেন বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ার এক্সপোর্ট একটা সিকিউরিটি কনসার্ন?”
ভারতের ইংরেজি পত্রিকা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে, ভারতের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য টানাপোড়েন আরও তীব্র আকার ধারণ করল। প্রায় এক মাস আগে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
অন্যদিকে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত। এখন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করল প্রতিবেশী দেশটি।


