… বাংলাদেশের পরিণতি মিসর, তিউনিসিয়া বা অন্য দেশের মতো হবে না। মিসরে … সেখানে কখনই নির্বাচিত সরকার থাকেনি। আমাদের এখানে তেমন না। আমাদের তো ১৯৯০ সালের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ছিল। আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের জন্য বাংলাদেশের পরিণতি মিসরের মতো হবে না। এটার সম্ভাবনা নেই। … এখন বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। নির্বাচন হলে তারা যে ক্ষমতায় আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা এসে দেশের কী করবে? আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে, এমনটা আশা করা যায়। এমনকি ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক আরো ভালো করার চেষ্টা করবে।
ভারতকে তো অবজ্ঞা করার কোনো উপায় নেই। সেটিকে বাংলাদেশ অস্বীকার করতে পারবে না। বিশেষ করে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এবং এখানকার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ভারতের যে প্রভাব আছে তা নির্মূল হয়ে যাবে তা তো না। সেটি থাকবে। কিন্তু আগেকার মতো ভারতের অধীন হয়ে যাবে বাংলাদেশ, সেটি হবে না। আমেরিকার প্রভাব থাকবে। চীনেরও প্রভাব থাকবে। কিন্তু ভারত ও আমেরিকার মতো এতটা প্রভাব থাকবে না।… এই যে উচ্ছৃঙ্খলতা, এর আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে ছাত্রদের যে কোটা আন্দোলন আর জনগণের অভ্যুত্থান-এটি কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের দ্বারা পরিচালিত হয়নি এবং কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণেও নেই। নিয়ন্ত্রণে থাকলে তারা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।
…. এ মুক্ত পরিবেশে যেমন ভালো কাজ হচ্ছে, তেমনি কিছু দুষ্কৃতকারী খারাপ কাজ করারও সুযোগ পাচ্ছে এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান ঠিক নেই। আবার কোনো রাজনৈতিক দলও নেই। কাজেই এখানে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। আর এ বিশৃঙ্খলা কতদিন চলবে তা বলা যায় না। হয়তো কিছুদিন যাবে এরপর এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদি দেখা যায় যে কারো নিয়ন্ত্রণে কাজ হচ্ছে না তাহলে অবস্থা আরো খারাপ হবে। … সংবিধান পুরো ফেলে দিতে হবে। এ সংবিধানে প্রথম ক্ষত করেছিল শেখ মুজিব, জঘন্যভাবে করেছিল। তারপর জিয়াউর রহমান, এরশাদ, হাসিনা ক্ষত করতে করতে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে এটার সংস্কার করার কিছু নেই। এটি ফেলে দিয়ে নতুন একটা সংবিধান করতে হবে।
… সাধারণভাবে ভারতে লেখক-বুদ্ধিজীবীরা এ জুলাইয়ের আন্দোলন এবং অভ্যুত্থানের পক্ষে কেউ কথা বলেনি। চুপ থেকেছে।…তার কারণ তাদের সবারই বাংলাদেশের ব্যাপারে কলোনিয়াল মাইন্ডসেট আছে। তারা সবাই চায় বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব থাকুক, ঢাকা নয়াদিল্লির আয়ত্বের মধ্যে থাকুক। সেটি চলে যাওয়ায় তারা না পারছে কিছু বলতে কিংবা করতে, এজন্য চুপ মেরে আছে। … ছাত্ররা কোটা আন্দোলন করে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা যদি এখন একটি দল দাঁড় করায় তাহলে তারা তখন কতগুলো নিয়মের অধীন হয়ে পড়বে।তাদের যে একেবারে হৈ হৈ রৈ রৈ করে বিকাশ ঘটবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। একটি রাজনৈতিক দল হলে তারা যে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে, তা মনে করি না।- বণিক বার্তার সঙ্গে ২ অক্টোবর,২০২৪ বদরুদ্দিন উমরের সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ।


