হলিউডে একটা সময় ছিলো যখন বয়স চল্লিশ পেরুনো অভিনেত্রীদের ভালো কোনো ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগই ছিলো খুব বিরল কিন্তু এখন সময়ে পাল্টাচ্ছে। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে পর্দায়। বয়ষ্ক অভিনেত্রীরা সিনেমা আর টিভিতে এমনভাবে আধিপত্য বিস্তার করছেন যা হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পুরানো কানুনকে চ্যালেঞ্জ করছে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মারিয়া বা নিকোল কিডম্যানের বেবিগার্ল ছবিতে সাহসী ও অর্থবহ চরিত্রে অভিনয় করা বয়স্ক অভিনেত্রীদের নতুন যুগের প্রতীক। এমনকি ভেনিসের মতো মর্যাদাপূর্ণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ৪০ এর বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে, যা আগে দেখা যায়নি।
নিকোল কিডম্যান বয়সের ফারাক নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন, যা আগে কেবল পুরুষ অভিনেতাদের অধিকারে ছিল। বেবিগার্ল-এ তিনি একজন সিইওর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি তার চেয়ে অনেক কম বয়সী একজন ইন্টার্নের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি আছেন অ্যানেট বেনিং ৬৬ বছর বয়সে এখনও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছেন। এবং টিল্ডা সুইনটন ও জুলিয়ান মুর, দুজনেই ৬৩ বছর বয়সে হলিউডে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এসব অভিনেত্রী দেখিয়ে দিলেন যে তাদের ক্যারিয়ার এখনো শেষ হয়নি বরং একটি রোমাঞ্চপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
এই প্রবণতা একেবারেই নতুন। যেমন গোল্ডি হন বা ডেব্রা উইঙ্গার – বয়স ৪০ পেরোেনার পর অভিনয়ের সুযোগ কমে গিয়েছিল অনেকখানি।
তবে আজকের তারকারা, যেমন kate blanchet এবং ভায়োলা ডেভিস, বয়স ৫০ পেরোনোর পরেও কাজের গতি ভালোই ধরে রেখেছেন এবং সমালোচকদের প্রশংসাও পাচ্ছেন। কেটের আসন্ন সিরিজ ডিসক্লেইমার তার ৫৫ বছর বয়সে আরেকটি সফল প্রজেক্ট হতে চলেছে, যা তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে।
বয়স্ক অভিনেত্রীদের এই অব্যাহত সাফল্য এবং #MeToo আন্দোলনের মতো সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলো হলিউডের দীর্ঘদিনের বয়স ও লিঙ্গনির্ভর বৈষম্যকেই প্রকাশ করছে। ফ্রান্সিস ম্যাকডোরমান্ড, মিশেল ইয়ো, এবং ডেমি মুরের মতো অভিনেত্রীরা এখন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছেন এবং আরও বেশি অন্তর্ভুক্তির জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের কাজ হলিউডের বয়স নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করছে ফলে চাপের মুখে শিল্পটি ধীরে ধীরে বয়স্ক মহিলাদের জন্য নতুন সুযোগের পথ খুলছে। এখন বয়স্ক অভিনেত্রীরা উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছেন।


