সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে পিএসসি সংশোধন করার পরও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ৭টি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময় ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেয়নি কেউ। মার্চে দরপত্র আহ্বান করেছিল পেট্রোবাংলা। দেশে গ্যাস সংকটে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্প কারখানার উৎপাদনও ঝুঁকিতে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আছে আগামী ছয়-সাত বছরেই ফুরিয়ে যাবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে কঠিন জ্বালানি সংকট তৈরী হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাগরেই ভরসা খুঁজছে বাংলাদেশ। সেখানে গ্যাস আছে বলেও মনে করেন দেশের জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি কোনো কোম্পানির সাড়া না পাওয়ায় সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেল। ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে কাজ নেয় কনোকো ফিলিপস। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিমাত্রিক জরিপ চালালেও পরে গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধে ব্লক ছেড়ে দেয়। একইভাবে চুক্তির পর কাজ ছেড়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্যান্তোস। কনোকোফিলিপস ও স্যান্তোস দাবি করেছিল তাদের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছিল, গ্যাসের দাম যেন তা থেকে বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার রাজি না হওয়ায় তারা চলে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কর্পোরেশনের সঙ্গে ১২ নম্বর ব্লকে গ্যাস উত্তোলনে ২০১৬ সালে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) করে পেট্রোবাংলা। গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধে দাইয়ু ব্লক ছেড়ে চলে যায়। এখন একমাত্র কোম্পানি হিসেবে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি। এ প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান কোম্পানির বিনিয়োগ ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে নতুন উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি)-২০২৩ চূড়ান্ত হয়। এতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম নির্ধারিত না রেখে জ্বালানি তেলের দামের ১০ শতাংশ ধরা হয়। তেলের দাম বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়বে, কমলে এটিও কমবে।
এখন তেলের দাম ৭০ থেকে ৭২ ডলার, এতে গ্যাসের দাম হবে ৭ থেকে ৭ দশমিক ২ ডলার। দরপত্র ডাকার সময় তেলের দাম ছিল ৯০ ডলারের বেশি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার অন্তত চার শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বণিক বার্তা জেনেছে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী না হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে দেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসও এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্র কেনা কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা ও পিএসসি পুনঃমূল্যায়ন করে আবার দরপত্র আহবান করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


