চীনের বাণিজ্য উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীন প্রযুক্তি এবং খনিজ প্রক্রিয়াকরণ খাতে প্রকৌশলীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক পদক্ষেপের পর চীন বর্তমানে প্রযুক্তিগত জ্ঞান সীমানার ভেতর রাখতে চাচ্ছে। এফটির প্রতিবেদন অনুসারে, চীনা কর্তৃপক্ষ কিছু ক্ষেত্রে প্রকৌশলী এবং সরঞ্জাম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করে তুলেছে। নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রস্তাব করে, বিশেষত ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন।
এটি এমন এক সময় ঘটছে যখন চীন উন্নত প্রযুক্তিতে সুরক্ষাবাদী অবস্থান নিয়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া এবং ইউরোপে বিদ্যুচালিত গাড়ি সম্পর্কিত বাণিজ্য বিরোধের কারণে। এমন পদক্ষেপের ফলে আরও অনেক স্থানীয় ও বিদেশী প্রতিষ্ঠান চীন থেকে তাদের উৎপাদন স্থানান্তর করতে পারে। ফক্সকন, অ্যাপলের প্রধান উৎপাদন অংশীদার, ভারতের দিকে তাদের সাপ্লাই চেইন সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তাইওয়ানি মালিকানাধীন ফক্সকন সম্প্রতি জানিয়েছে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ ভারতে সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর করা কঠিন করে তুলেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (যেমন ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া) চালান স্বাভাবিকভাবে চলছে।
এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনের শুল্ক বিভাগের বিলম্বের কারণে দক্ষিণমুখী যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ভারতীয় উৎপাদন কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিং এখন পশ্চিমা প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো কৌশল গ্রহণ করছে। যদিও আগে চীন এসব বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছিল, বর্তমানে বিশেষভাবে ভারতসহ চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এসব নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ হচ্ছে। কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রকল্পগুলোতে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই।
বেইজিং আগে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করছিল, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তৃত রফতানি নিষেধাজ্ঞা চালু করছে। এ এবার থেকে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে। এক বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন, চীনের শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন এবং দক্ষ কর্মশক্তি তাদের জন্য একমাত্র সুবিধা, যা তারা অন্য দেশে হারাতে চাইবে না। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে লিথিয়াম উত্তোলন এবং উন্নত ব্যাটারি উপকরণ তৈরির প্রযুক্তির ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। জার্মানির মার্সেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের বিশ্লেষক আন্তোনিয়া হামিডি বলেছেন, চীন একটি বৃহৎ রফতানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্র হিসেবে চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।
চীনের এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিশেষত ব্যাটারি সরবরাহ চেইন সম্পর্কিত পদক্ষেপ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। নতুন বিধিনিষেধের ফলে তারা উচ্চমানের চীনা প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। এছাড়া, লিথিয়াম উত্তোলন প্রযুক্তি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দক্ষিণ আমেরিকার প্রকল্পগুলির জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন বলিভিয়ার লিথিয়াম উত্তোলন প্রকল্পে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার।


