ঢাকার মোহাম্মদপুরে নতুন কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “কে কী বলল, তা শোনার দরকার নেই।নির্বাচনের সময় নির্ধারিত আছে। জনগণ যখন ভোটমুখী হবেন, তখন কেউ বাধা দিতে পারবে না। কারো কোনো শক্তি নেই নির্বাচন বন্ধ করার।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে রোজার আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরদিন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি প্রেরণ করেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং কারো বক্তব্য বা প্রতিবন্ধকতা এ বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের হাতে।”
একই সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন চলমান ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন। সম্প্রতি একজন সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেখানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম উল্লেখ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো ঘটনা ঘটলে তা আইনের আওতায় আনা হবে।” এছাড়া তিনি মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার আহ্বানও জানান।
কাঁচাবাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, “বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে আলুর দাম তেমন বাড়েনি। প্রচুর আলু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত রয়েছে।” তিনি কৃষকদের জন্য বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন এবং কাঁচাবাজার, কোল্ড স্টোরেজ এবং কৃষি উৎপাদন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে নির্বাচনের সময়সূচি ও জনস্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা এবং কার্যকর প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের নির্বাচনের সময়সূচি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব বহন করছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সব ক্ষেত্রেই তিনি জনগণকে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন যে, সরকারি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে স্বচ্ছ, সময়মতো ও সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করা।


