দিনে মাঝে মাঝে আমাদের চোখ জড়ানো একটুখানি বিশ্রাম নিতে ইচ্ছা হয়। তবে একটু দেরি না করে চোখ বন্ধ করে আধ ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিলে অনেকেই সেই মুহূর্তে এক ধরনের নতুন শক্তি অনুভব করেন, যেন শরীরের ক্লান্তি অনেকটা দূর হয়ে গেছে। কিন্তু সারা দিনের কাজ শেষে রাতে যখন ঘুমানোর সময় আসে, তখন সেই দুপুরের ঘুমের কারণে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। ন্যাপিং বা দুপুরের ছোট ঘুম দীর্ঘদিন ধরে একে শক্তি বাড়ানোর, মেজাজ উন্নত করার এবং মনোযোগ বাড়ানোর অন্যতম উপায় হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু মানুষের জন্য এটি রাতে ঘুমের ব্যাঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ন্যাপিং এক ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত বিষয়। সঠিকভাবে নিলে এটি মস্তিষ্ককে পুনরায় শক্তি দিতে পারে, মনোযোগ বাড়াতে পারে এবং শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে। আবার যদি ভুলভাবে নেন, তবে এটি আপনাকে আরও ক্লান্ত এবং অস্থির করতে পারে, এমনকি রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সারকেডিয়ান রিদম, দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা সাধারণত দুপুরের দিকে ১টা থেকে ৪টার মধ্যে হয়। এর কারণে অনেকেই এই সময়টাতে শুয়ে পড়তে ইচ্ছুক হন।
গবেষণা বলে, দুপুরের এই সময়ে একদম ছোট্ট একটি ঘুম, যেমন ১০-২০ মিনিটের “পাওয়ার ন্যাপ” মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে পারে এবং রাতের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে মানসিক ফোকাস এবং সতর্কতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি সতর্কতা রয়েছে। যদি এই ঘুম ৩০ মিনিটের বেশি হয়, তবে গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার কারণে শরীর ঘুমের পরবর্তী ধাপে চলে যেতে পারে, যা ঘুম থেকে উঠে তীব্র অবসন্নতা এবং বিভ্রান্তির অনুভূতি তৈরি করে। ফলে কাজের পরিবেশে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
যারা নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম পান না তাদের জন্য দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে এটি যদি নিয়মিত হয়ে যায়, তবে রাতে ঘুমানোর চাপ কমে যেতে পারে, যা সুস্থ ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে কীভাবে সঠিকভাবে ন্যাপিং করা উচিত? ঘুমের সময় ১০-২০ মিনিটের মধ্যে রাখুন, এবং দুপুর ২টার আগে ঘুমান। নিঃশব্দ ও অন্ধকার পরিবেশে ঘুমাতে চেষ্টা করুন, যাতে ঘুমের গুণমান উন্নত হয়। ন্যাপিং সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। বয়স, জীবনযাপন এবং ঘুমের ধরন সবকিছুই এর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এটি সম্পর্কে গবেষণা করে নিজেকে জানুন এবং বুঝুন কোন ধরনের ঘুম আপনার জন্যে বেশি উপকারি।


