সমাজে আমরা প্রায়ই হৃদরোগকে শুধুই বয়স্কদের বা শারীরিক দুর্বলতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভিন্ন ও উদ্বেগজনক চিত্র, পুরুষরা নারীদের তুলনায় “ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম”-এ দ্বিগুণ হারে মারা যাচ্ছেন। এটি শুধুই কোনো আবেগপ্রবণ বাক্য নয়, এর পেছনে আছে কঠিন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশ্লেষণ।
“ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম”, যার বৈজ্ঞানিক নাম Takotsubo Cardiomyopathy (TC), মূলত একটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া হৃদযন্ত্র দুর্বলতার অবস্থা।কোনো চরম আবেগজনক ঘটনা, মানসিক আঘাত, বা শারীরিক চাপ—যেমন বড় অপারেশন, ইনফেকশন বা দুর্ঘটনা হৃদপেশিকে দুর্বল করে দেয়। এতে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের মতোই মনে হয় কিন্তু আসলে এটি ভিন্ন ও জটিল এক অবস্থা।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রায় ২ লক্ষ রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নারীরা সংখ্যায় বেশি আক্রান্ত হলেও TC-তে পুরুষদের মধ্যে মৃত্যুহার অনেক বেশি—প্রায় ১১%, যেখানে নারীদের মধ্যে তা ৫.৫%। গবেষকেরা মনে করেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক চাপজনিত ট্রিগার বেশি কাজ করে, ফলে তাদের শরীর এই আঘাত সামাল দিতে পারে না।
এর পেছনে হরমোনগত পার্থক্যও দায়ী হতে পারে। নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন হয়তো এই অবস্থা থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়, যা পুরুষদের দেহে অনুপস্থিত। এছাড়া পুরুষেরা সাধারণত মানসিক চাপ বা আবেগ প্রকাশে বেশি সংযত, যা ভেতরে জমে থাকা চাপকে আরও মারাত্মক করে তোলে।
এই সিনড্রোম শুধু দুঃখজনক ঘটনার জন্যই নয়, অত্যন্ত খুশির মুহূর্তেও ঘটতে পারে, যাকে বলা হয় “হ্যাপি হার্ট সিনড্রোম”—যেমন লটারি জেতা, হঠাৎ সারপ্রাইজ বা প্রোমোশন পাওয়া। ফলে এই অসুখের মূলকথা একটাই: হৃদয় হঠাৎ ও প্রবল আবেগে সাড়া দেয় এবং তা কখনো কখনো বিপজ্জনক হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্লাড থিনার ব্যবহার এই মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমাতে পারে। তাই বিশেষ করে পুরুষদের যারা শারীরিক বা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য সচেতনতা ও মানসিক সহায়তা এখন সময়ের দাবি।


