মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম ন্যাটো সফরে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন-ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর সদস্যপদ অবাস্তব। রাশিয়ার দখল করা সব অঞ্চল ফিরে পাওয়ার আশা ত্যাগ করে ইউক্রেনের উচিত একটি শান্তিচুক্তির জন্য প্রস্তুত হওয়া। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হেগসেথের এই মন্তব্য ইউক্রেন সংকটে মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন ট্রাম্প। তিন বছর পূর্ণ হতে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এটা ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ।
বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন-আমি মনে করি না যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত হবে। ইউক্রেনের হারানো সব ভূখণ্ড ফিরে পাওয়াটাও অসম্ভব। তিনি ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করার জন্য শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেইন যুদ্ধের তিন বছর পূর্তি হবে চলতি মাসে। এই তিন বছরের মধ্যে এই যুদ্ধ অবসানে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করেননি বরং কিইভকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা পাঠিয়েছেন।
রাশিয়া এ পর্যন্ত ইউক্রেইনের মোট আয়তনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ দখল করে নিয়েছে এবং কিইভকের কাছে আরও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। যে কোনো শান্তি চুক্তির অধীনে ইউক্রেইনকে স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে মস্কো।অপরদিকে ইউক্রেইনের দাবি হচ্ছে, রাশিয়া দখল করে নেওয়া অঞ্চলগুলো থেকে সরে যাবে এবং মস্কোকে আবার হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে কিইভকে নেটোর সদস্যপদ বা এর সমপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে।


