পুতিনের লাল দাগ – ৫টি পয়েন্ট

কমার্স্যান্ট পত্রিকার শিরোনাম বেশ নাটকীয় – ভ্লাদিমির পুতিন তার রেড লাইন টেনে দিয়েছেন। পশ্চিম কি এটা অতিক্রম করবে? যদি করে, রাশিয়ার জবাব কি হবে? সেন্ট পিটার্সবার্গে বক্তৃতায়, পুতিন পশ্চিমের কাছে একটি স্পষ্ট সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন: ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাত করার জন্য আপনাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন না। তিনি বলেন- মস্কো এটাকে ইউক্রেনের যুদ্ধে ন্যাটো দেশগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ হিসেবে দেখবে। … এটা সংঘাতের প্রকৃতি ও চেহারাকে ব্যাপকভাবে বদলে দেবে। এর অর্থ দাঁড়াবে, ন্যাটো দেশগুলি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেছেন- রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য, ইউক্রেনের পশ্চিমা উপগ্রহ থেকে ডেটা প্রয়োজন এবং শুধুমাত্র ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের সেনারা এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ফ্লাইট মিশন ইনপুট দিতে সক্ষম।

রাশিয়া এর আগেও এমন সীমানা টেনেছে এবং লঙ্ঘিত হতেও দেখেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ এ, যখন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার ঘোষণা করেছিলেন – বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করতে যাদের হাত নিশপিশ করতে পারে তাদের জন্য রাষ্ট্রপতি পুতিন একটি সতর্কতা জারি করেছিলেন। ক্রেমলিন নেতা ঘোষণা করেছিলেন- যেই আমাদের পথে বাঁধা হোক বা আমাদের দেশ এবং আমাদের জনগণের জন্য হুমকি তৈরি করুক না কেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে যে রাশিয়া ত্বরিত জবাব দেবে। এর পরিণতি এমন হবে যা আপনি ইতিহাসে কখনও দেখেননি। পারমাণবিক অস্ত্রের সেই দৃশ্যমান ঝনঝনানি পশ্চিমা নেতারা উপেক্ষা করেছিলেন। পশ্চিমারা তখন থেকে ইউক্রেনকে ট্যাংক, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং অতি সম্প্রতি F-16 আমেরিকান যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। ইতিমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্রিমিয়াকে লক্ষ্য করে আমেরিকান দূরপাল্লার ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে।

তার উপর, গত দুই বছরে, রাশিয়ান কর্মকর্তারা এবং রাষ্ট্রীয় মিডিয়া প্রায়শই পশ্চিমকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগে দায়ী করেছে, যদিও রাশিয়াই ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সুর থেকে স্পষ্ট যে তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রুশ ভূখণ্ডকে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়ে টার্গেট করলে সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পাবে। তিনি গতকাল যা স্পষ্ট করেননি তা হল মস্কোর প্রতিক্রিয়া কি হবে। ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন- আমাদের জন্য তৈরি হওয়া হুমকির মাপে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। শুক্রবার রাশিয়া ছয় ব্রিটিশ কূটনীতিকের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয় নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগে।

এই মাসের শুরুর দিকে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সের্গেই রিয়াবকভ ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়া তার পারমাণবিক নীতি সংশোধন করতে প্রস্তুত, যা মস্কো কোন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বিবেচনা করতে পারে তার নির্দেশনা দেয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নীতি সংশোধন করার এই সিদ্ধান্ত [রাশিয়ার] পশ্চিমা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধতার তীব্রতা বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত। স্যার কেয়ার স্টার্মার রাষ্ট্রপতি বিডেনের সাথে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে রয়েছেন। দুই নেতা যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে তার মধ্যে ইউক্রেন এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশ্ন আছে। রাশিয়া এই সংঘাত শুরু করেছে। রাশিয়া অবৈধভাবে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে, রাশিয়া এই বিরোেধ এখনই শেষ করতে পারে।– স্যার কেয়ার ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে বলেছিলেন। পশ্চিমা নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদের কাছে কোনটা বড়: সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নাকি ইউক্রেনের পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।

তবে পুতিনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া অনেক বিস্তৃত হতে পারে। জুন মাসে তিনি কিছু ধারনা দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রধানদের সাথে এক বৈঠকে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- ইউক্রেনকে ইউরোপের সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সুযোগ দেওয়া হলে রাশিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে? প্রথমে আমরা অবশ্যই আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করব। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব– প্রেসিডেন্ট পুতিন জবাব দেন। দ্বিতীয়ত, আমরা বিশ্বাস করি, কেউ যদি আমাদের ভুখণ্ডে আঘাত হানতে এবং আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করা সম্ভব বলে মনে করে, তাহলে আমরা কেন আমাদের একই শ্রেণীর অস্ত্র সারা বিশ্বের সে অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারি না যেখান থেকে যে দেশগুলো রাশিয়ার সাথে এটা করছে তাদের স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হবে? অন্য কথায়, পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য পশ্চিমের প্রতিপক্ষকে সশস্ত্র করার বিষয় মস্কো বিবেচনা করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন