যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলে তেহরানকে অবশ্যই তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং অস্ত্রায়ণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ ‘বাতিল’ করতে হবে। আগামী শনিবার মাসকাটে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরুর আগে এ দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। তবে ইরান বলেছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারের বিষয়টি বাতিল করা নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। উইটকফের মন্তব্য তাঁর আগের দিন করা মন্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, উইটকফ আগের দিন বলেছিলেন – ইরান শক্তি উৎপাদনের জন্য যদি খুব কম পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে, তাহলে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি থাকবে না।
উইটকফের মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা উইটকফের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য শুনেছি, তবে আলোচনার টেবিলে আসল অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়ে আমরা আস্থা তৈরি করতে প্রস্তুত। তবে সমৃদ্ধকরণের নীতি আপসযোগ্য নয়।’ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা(আইএইএ)র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০% সমৃদ্ধির খুব কাছাকাছি। ইরান ইতিমধ্যে ৪২ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে, যা একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান সরকার জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য।
এদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ইরান খুব বেশি দূরে নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন তিনি ।ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করার ওপর জোর দেন তিনি। অন্যদিকে, ইরানের ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মূল কারিগর মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পেজেশকিয়ান প্রশাসনে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জারিফ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নতুন করে একটি পরমাণু চুক্তি করার চেষ্টা করছিলেন, যেটি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাতিল করেছিলেন।
নভেম্বরে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও কট্টরপন্থিরা জারিফের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কালিবাফ বলেছিলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা জারিফের পদ নিয়োগ অবৈধ এবং তাকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত। এছাড়া কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তিনি অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছিলেন। জারিফ সংস্কারপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে সরকারের কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ দেন।


