পারফরম্যান্স আর্টের শিকড় খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পারফরম্যান্সের বিভিন্ন উপাদান বিদ্যমান ছিল। গ্রীক নাট্যশালা, ভারতীয় কুথু, জাপানের নোহ ও কাবুকি থিয়েটারসহ মধ্যযুগীয় ইউরোপের ক্যার্নিভাল ও ধর্মীয় রিচুয়ালগুলোর মধ্যে পারফরম্যান্স আর্টের পূর্বসূরি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো অনেক উপাদান পাওয়া যায়।তবে আধুনিক পারফরম্যান্স আর্টের সূচনা হয় ১৯শ ও ২০শ শতকে, যখন শিল্পীরা প্রচলিত শিল্পধারার গণ্ডি ভেঙে নিজেদের দেহ ও পারফরম্যান্সকে শিল্পের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।পারফরম্যান্স আর্টের ইতিহাস ও বিবর্তনের গল্পে প্রথম পর্যায়ে আসে দাদা ও স্যুররিয়ালিজম। ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের ইতিহাস।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দাদা আন্দোলনের শিল্পীরা প্রচলিত সমাজ ও রাজনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা থিয়েটার, কবিতা, সংগীত এবং চিত্রকলার সমন্বয়ে পারফরম্যান্স তৈরি করেন। ১৯১৬ সালে হুগো বল জুরিখের ক্যাবারে ভলতেয়ারে তার ব্যঙ্গাত্মক এবং আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন কবিতা পরিবেশন করেন, যা ছিল পারফরম্যান্স আর্টের একটি প্রাথমিক নিদর্শন। এরপর স্যুররিয়ালিস্ট শিল্পীরা স্বপ্ন ও অবচেতন মনের উপর ভিত্তি করে পারফরম্যান্স আর্টের একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।স্যুররিয়ালিজম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শিল্পী সালভাদর ডালি। ১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে তার করা “Dream of Venus” ইনস্টলেশনটি ছিল পারফরম্যান্স আর্ট ও পরিবেষ্টিত শিল্পের এক ব্যতিক্রমী নিদর্শন। এছাড়া তার জীবনযাত্রা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরন নিজেই একধরনের পারফরম্যান্স হয়ে ওঠে। তিনি প্রায়ই নাটকীয় ও অতিরঞ্জিত ভঙ্গিমায় প্রকাশ্যে আবির্ভূত হতেন, যা স্যুররিয়ালিজমের আত্মা বহন করত।
দ্বিতীয় পর্যায়ে হ্যাপনিংস ও ফ্লাক্সাস আন্দোলন (১৯৪০-১৯৬০)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এলান কাপ্রো (Allan Kaprow) ‘Happenings’ ধারণার প্রচলন করেন। যেখানে শিল্প ও জীবনের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা হয়। এটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, অপ্রচলিত এবং দর্শকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার একটি নতুন ধারা। একই সময়ে ফ্লাক্সাস (Fluxus) আন্দোলনের মাধ্যমে ইয়োকো ওনো, নাম জুন পাইক এবং অন্যান্য শিল্পীরা বহুমাধ্যমিক পারফরম্যান্স তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে সমসাময়িক পারফরম্যান্স আর্টের ভিত গড়ে তোলে।এরপরে আসে শরীরকেন্দ্রিক ও রাজনৈতিক পারফরম্যান্স (১৯৭০-১৯৯০)। ১৯৭০-এর দশকে পারফরম্যান্স আর্ট আরও চরম ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। এই সময়ে মারিনা আব্রামোভিচ তার “Rhythm 0” (১৯৭৪) পারফরম্যান্স করেন, যেখানে দর্শকদের ৭২টি বস্তু দিয়ে তার শরীরে যা খুশি তা করার অনুমতি দেওয়া হয়।


