পায়রা বন্দর অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়া – পরিকল্পনা উপদেষ্টা

পটুয়াখালীর পায়রাকে সমুদ্রের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েছিল পতিত বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। বলা হয়েছিল, পায়রাকে দেশের লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়। তবে গভীরতা না মেলায় ২০২১ সালে পায়রাকে গভীর সমুদ্রবন্দর করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পায়রা বন্দর প্রকল্পকে অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়া বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন পায়রায় সমুদ্র বা নদীবন্দর নয়; বরং একটি ঘাট হতে পারত। বিপুল বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পর এখন প্রকল্পটি থেকে সরে আসাও যাচ্ছে না। কিন্তু আমরা এটা শুরু করতাম না।

রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভায় বলা হয়, বালি ও পলি জমার তীব্র ঝুঁকিতে আছে পায়রা সমুদ্র বন্দর। যা এর ভবিষ্যতকে চ্যালেঞ্জে ফেলবে। তিনি বলেন, ‘সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকায় প্রকল্পটি বাদ দেয়া যাচ্ছে না। সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে গিয়ে সুন্দরবনের একটি অংশ নষ্ট হয়েছে। এখন আবার ইয়ার্ড, জেটি ও সংযোগ সড়ক করা লাগবে। এভাবে চলতেই থাকবে। ব্যয়বহুল ড্রেজিং মেশিন কেনা হচ্ছে। সারা বছর ড্রেজিং করতে হবে। এখন এটার কোনো উত্তম সমাধান নেই। এটা অর্থনীতির জন্য বিষফোঁড়ার মতো। অনেক বিনিয়োগ করে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হয়েছে, চাইলেই সেটা বন্ধ করা যাবে না।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্পটি শর্ত সাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কারণ, এই প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে বন্ধ করে দেওয়ার আগে ওইখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা পরিবহনের সুবিধার্থে কিছু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আপতত প্রকল্পটি চালু থাকবে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা নদীতীরে কয়লাভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান। আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি উৎপাদনে রয়েছে, একটি উৎপাদনের অপেক্ষায় ও আরেকটি নির্মাণাধীন।

চ্যানেলের গভীরতা নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে পায়রায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, বড় জাহাজ চলাচল করতে না পারলে এ বন্দর বাণিজ্যিকভাবে কখনো লাভজনক হবে না।সেক্ষেত্রে বড় জাহাজ থেকে লাইটারে করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা নিতে খরচ বেড়ে যাবে। আর খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের দামেও।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন