আজারবাইজান জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে পানি সম্পদকে কেবল একটি মৌলিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে নয়, বরং একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারি উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশটি পানি ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।
আজারবাইজানের মোট পৃষ্ঠতল পানি সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার, যার মধ্যে ৩০% দেশীয় উৎস থেকে এবং বাকি ৭০% প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসে। তবে সাম্প্রতিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২২ সালে এই পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন ঘনমিটারে নেমে এসেছে, যা দেশের পানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সংকট মোকাবিলায় আজারবাইজান সরকার “জাতীয় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কৌশল” প্রণয়ন করেছে, যা ৬ থেকে ১৮ বছরের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই কৌশলের আওতায় পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই কৃষি চর্চার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি অঞ্চলে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সেবা উন্নত করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও আজারবাইজানের পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে তাজা পানি উৎপাদনের জন্য প্রযুক্তি গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পানি বণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও নতুন চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজারবাইজানের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেবল দেশীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই ধরনের কৌশলগত পরিকল্পনা অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও শিক্ষণীয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি, এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে আজারবাইজান তার পানি সম্পদকে একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে।


