বিদেশে বাংলাদেশিদের অবৈধ সম্পদ জরুরি ভিত্তিতে জব্দ করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক চারটি দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। এই সংস্থাগুলোর প্রধানেরা যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে ৩০ আগস্ট পাঠানো যৌথ চিঠিতে বলেন- সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ অতিদ্রুত চিহ্নিত ও পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং সমর্থনের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে ৩টি বিষয় জরুরিভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রথমত – কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি বা কোম্পানির পাচার করা সম্পদ যুক্তরাজ্যে রয়েছে কি না এবং তা পুনরুদ্ধারযোগ্য কি না, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিকে সক্রিয় হয়ে পাচারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সেই সম্পদ জব্দ করাসহ সব পদক্ষেপ নেওয়া ।
দ্বিতীয়ত- বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের পাশাপাশি ফরেনসিক হিসাবরক্ষক ও আইনজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। যাতে এই সংস্থাগুলো পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তৃতীয়ত- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (বিশেষ করে দুবাই) যেসব দেশে বাংলাদেশের অর্থ-সম্পদ পাচার হয়েছে, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের এ সম্পদ দেশে ফেরত আনা এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত সবার জবাবদিহি নিশ্চিতের পথ ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানানো হয়। টিআই-ইউকের নীতিবিষয়ক পরিচালক ডানকান হেমজ বলেন- ব্রিটিশ সরকারের উচিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং তাঁদের সহায়তাকারীদের বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ জব্দ করা, যাতে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ তাঁরা ভোগ করতে না পারেন ।


