“… ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিদ্রোহ চলছে। এই সময়ের মধ্যে বহু মানুষ গ্রেপ্তার, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হয়েছেন। ভারত এ জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ভূমিকাও যে বড়, তা অস্বীকার করা যায় না।
গত এপ্রিলে পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার জের ধরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট না হলেও ভারত চট করেই পাকিস্তানকে দায়ী করে বসে এবং পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।
… সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই হতাহত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এটি কিছুটা আশার জায়গা। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে সরকার ও সেনাবাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতায়। ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলেই পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ। তাঁদের মত হলো, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল আর ভারতীয় পরিকল্পনায় ছিল বড় ঘাটতি।
তারপরও ভারতের মূলধারার মিডিয়াগুলো এই সংঘর্ষকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরে। এমনকি করাচিতে হামলা, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আটক করার মতো ভিত্তিহীন খবরও তারা প্রকাশ করেছে। এতে প্রশ্ন ওঠে—এই মিডিয়াগুলোর ওপর ভবিষ্যতে জনগণের আস্থা থাকবে তো?
কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারত কিছুটা কোণঠাসা। গাজায় ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল ভারতের পাশে দাঁড়ায়। তবে তুরস্ক প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করে এবং অধিকাংশ দেশ নিরপেক্ষ থাকে। মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্র (যার সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ মৈত্রী গড়তে চেয়েছিল) স্পষ্টভাবে কোনো পক্ষ নেয়নি।
অন্যদিকে পাকিস্তান এ ঘটনাকে নিজেদের বিজয় হিসেবেই দেখছে। ভারতের তুলনায় অনেক ছোট হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সফলভাবে প্রতিরোধ গড়তে পেরেছে। রাজনৈতিক চাপে থাকা সামরিক নেতৃত্বও এই সামরিক সাফল্যের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায় : এই মাসের ঘটনাগুলো কি ভারত-পাকিস্তান বিরোধের আরেকটি নতুন অধ্যায়মাত্র? নাকি দুই দেশ অবশেষে বুঝবে—কাশ্মীর সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই, আর আন্তরিক কূটনীতিকে এগিয়ে আনার এখন সময় হয়েছে? “


