… ভারতের সমাজে ‘গোলপোস্ট’ অর্থাৎ মৌলিক চরিত্রের পরিবর্তন হয়ে গেছে। খাতা-কলমে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও আসলে আর তা নয়। ভারতে এখন একটাই ন্যারেটিভ এবং সেটা হিন্দুত্ববাদী। শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মূলস্রোতের রাজনৈতিক দল, যেমন সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সবাদী) বা হয়তো নকশালপন্থীরাও কোনো না কোনোভাবে হিন্দুত্বের দ্বারা প্রভাবিত। … কেউ কখনো বলে না বিশেষত বুদ্ধিজীবীরা যে আমাদের একটা দল গঠন করে বাংলাদেশে গিয়ে দেখা দরকার, অত্যাচার কি শুধু হিন্দুদের ওপরে হয়েছে, নাকি মুসলমানদের ওপরেও হয়েছে? বা কীভাবে একটা দল ১৬ বছর নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থেকে চরম নৈরাজ্যের জন্ম দিল? … তাদের একজনও প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেন না কেন পরিস্থিতি এ জায়গায় পৌঁছাল, দ্বন্দ্ব এমন চরম আকার নিল।
… ভারতে যে ‘ইসলামোফোবিয়া’ মুসলমান সমাজকে ভোগ করতে হয়, এখন বন্ধু সরকার চলে যাওয়ার পরে তার কিয়ংদংশ বাংলাদেশকে করতে হচ্ছে এবং হবে। কোনো রাজনৈতিক দলই সরাসরি এর বিরোধিতা করবে না, কারণ ভারতে রাজনীতির ‘গোলপোস্ট’ পরিবর্তন হয়ে গেছে সবাই হিন্দু ভোট হারানোর ভয়ে ভীত। এই ‘ইসলামোফোবিয়া’ বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে বাড়বে; কারণ, ২০২৬ সালের গোড়ায় এই রাজ্যে বিধানসভা ভোট আছে। বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনো ইস্যু নেই, যা দিয়ে তারা তৃণমূলকে ঘায়েল করতে পারে। একমাত্র ইস্যু বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন।
… তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হলো বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কে একটা স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ।… ভারত বোঝে, এটা ২০০১-০৬ সাল নয়, যখন বিএনপি-জামায়াতের সরকারের সঙ্গে কংগ্রেস-বিজেপির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল। এই ২০ বছরে চীনের উত্থানের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যে পরিমাণে ব্যবসা বেড়েছে, সেটাও প্রায় অবিশ্বাস্য। সেটাও মাথায় রেখে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে। এ কারণে, বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্তরে তার সম্পর্ক অতীতের মতো খারাপ হবে না।
কিন্তু দল হিসেবে বিজেপির এ রকম কোনো দায় নেই। উপরন্তু, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপির লাইন নিয়েছে। বিশিষ্টজনেরা নিয়েছেন চুপ থাকার লাইন। … এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হবে। তবে আবার ধীরে ধীরে ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলে পশ্চিমবঙ্গও তখন আবার কেন্দ্রীয় সরকারের লাইন নেবে। আপাতত আশায় থাকতে হবে যে পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশে নির্বাচনের পরে সম্পর্কে একটা ইতিবাচক উৎসাহ অনুভূত হবে।


