ভয়ংকর খুন ও মারামারি আছে, এমন অ্যাকশন বা থ্রিলার সিনেমা বা ভিডিও গেম নিয়মিত দেখলে অবচেতনভাবেই সহিংস আচরণ অনুকরণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। সহিংস সিনেমা-ভিডিও দেখে অভ্যস্তদের কাছে ধৈর্য নিয়ে ধাপে ধাপে একটি সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে আক্রমণাত্মকভাবে কোনো কিছু আদায় করাকে তুলনামূলকভাবে সহজ মনে হতে পারে। সামাজিক পরিস্থিতিতেও তারা আলোচনার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক উপায়ে কোনো কিছু সমাধানের চেষ্টা করে।
ভার্চুয়াল জগতে সহিংসতা দেখা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিষ্ঠুরতা বিষয়ে নির্লিপ্ততা চলে আসতে পারে। বাস্তব জীবনে ঘটা সহিংস আচরণ তাদের কাছে মনে হতে পারে স্বাভাবিক, অন্যের দুঃখকষ্টে সমব্যথী হওয়ার পরিবর্তে দেখা দিতে পারে নির্বিকারত্ব। পৃথিবী সম্পর্কে একটি বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে, মানুষ মাত্রই সহিংস এবং পৃথিবীটা একটি খারাপ জায়গা। ফলে ভয়, সন্দেহ ও অন্যদের প্রতি অনাস্থা বেড়ে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সহিংস ভিডিও বা চলচ্চিত্র দেখলে উদ্বেগ, ও মানসিক চাপ বাড়ে; শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আক্রমণাত্মক চিন্তা, মনোভাব এবং আচরণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। সিনেমা বা সিরিজে শেখা সহিংস আচরণ আন্তব্যক্তিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।মমত্ববোধের অভাব ও আক্রমণাত্মক আচরণ তরুণদের সুস্থ সামাজিক সম্পর্কগুলো তৈরি করতে এবং বজায় রাখতে বাধা তৈরি করে।
সহিংস সিনেমা বা ভিডিও দেখে যে সবাই সমানভাবে প্রভাবিত হবে, এমনটি বলা যায় না। ব্যক্তির মেজাজ, ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদির ভিত্তিতে এর প্রভাব নির্ভর করে। সিনেমা ও ভিডিও গেমে সহিংসতার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজের ভেতর পরিমিতিবোধ তৈরি করাই এ ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত নিবন্ধের সংক্ষেপ।
লেখক- রউফুন নাহার
সহকারী অধ্যাপক, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


