ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমাদ বিন মুবারক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার এক্স-এ এক পোস্টের মাধ্যমে জানান, তিনি তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে না পারায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিন মুবারক সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (PLC) প্রধান রাশাদ আল আলিমি এবং কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে দুই মন্ত্রী ও কাউন্সিলের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও সঠিক প্রশাসনিক পরিবর্তন আনতে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না”—বিন মুবারকের পদত্যাগপত্র থেকে উদ্ধৃতি।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সরকার দক্ষিণের এডেনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সরকারকে সমর্থন দিয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মেলেনি। বর্তমানে হুথিরা ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। পদত্যাগপত্রে বিন মুবারক উল্লেখ করেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি স্বল্প সময়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানসহ অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে মার্কিনভিত্তিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাসা বলেন, “বিন মুবারক ক্রমাগত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সঙ্গে সংঘাতে ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা চান। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করে তোলে।”
সরকারি সূত্র আরও জানায়, বিন মুবারক দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করেছিলেন। এ কারণে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী ও কাউন্সিল সদস্যদের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। ২০১৫ সালে হুথিরা তাঁকে অপহরণ করে কয়েকদিন আটকে রেখেছিল। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ও জাতিসংঘে ইয়েমেনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন এবং ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ পান। বিশ্লেষক আল-বাসার মতে, বিন মুবারকের বিদায় “সরকারের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা প্রশমিত করবে এবং বিভক্তি কমাবে—এটি সরকারকে ঐক্যবদ্ধ করার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেনের যুদ্ধ লক্ষাধিক প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। যদিও ২০২২ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত ছয় মাসের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটা কমে আসে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর থেকে হুথিরা ইসরায়েল ও লাল সাগর-আডেন উপসাগরে জাহাজ টার্গেট করে আক্রমণ শুরু করে। মার্চে গাজায় মানবিক সহায়তা অবরোধের প্রতিবাদে হুথিরা আক্রমণ পুনরায় শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। বিন মুবারকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ইয়েমেন সরকারের অভ্যন্তরীণ জটিলতা কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।


