২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় তালেবান। একই সঙ্গে হাতেগোনা নির্দিষ্ট কাজের বাইরে নারীদের অন্য কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়। আফগানিস্তানে ২০২০ সালে নারী কর্মজীবীদের হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ, পুরুষদের চেয়ে চার গুণ কম। তালেবান শাসনামলে এই হার আরও কমে যায়। সুযোগের অভাব, দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি আফগান মেয়ে ও নারীদের ঠেলে দিয়েছে দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য কার্পেট বোনার কাজে। এটি আফগানদের অল্প কয়েকটি ব্যবসার একটি, যেখানে নারীদের কাজ করার অনুমতি দিয়েছে তালেবান সরকার।
জাতিসংঘ বলছে, আফগানিস্তানের প্রায় ১২-১৫ লাখ মানুষের জীবিকা কার্পেট বুনন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে নারীরা কর্মশক্তির প্রায় ৯০ শতাংশের জোগান দিচ্ছে। গত বছর জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানিস্তানের অর্থনীতি ‘মূলত ভেঙে পড়েছে’। এমন পরিস্থিতিতে কার্পেট বুনন শিল্প আফগানদের আশার আলো দেখাচ্ছে। বিদেশে এই পণ্য রপ্তানি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে তারা। এসব কার্পেট পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। তবে এই রপ্তানি পণ্য দেশে লাখ লাখ ডলার আনলেও তার অর্থ এটা নয়, কার্পেট বুনন শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে। কারখানায় দমবন্ধ পরিবেশে টানা ১০ বা ১২ ঘণ্টা কাজ করে দিনে এক ডলারেরও কম আয় করেন এই শ্রমিকরা।
পরিবারের খরচ চালাতে অর্থের দরকার, কিন্তু চাকরির বাজার ভালো নয়। এ কারণে কম মজুরির এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন আফগানরা মেয়েরা। তালেবান ক্ষমতায় বসার পর বারবার বলে আসছে, ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে পাঠ্যবই তৈরি করাসহ শিক্ষাদানকেন্দ্রিক অন্যান্য সমস্যা নিরসন করা হলেই মেয়েরা স্কুলে আবারও পড়াশোনা করতে পারবে। কিন্তু ৪ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা হয়নি। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, তালেবানের আরোপিত এই শিক্ষা নিষেধাজ্ঞার ফলে ১০ লাখেরও বেশি আফগান কিশোরী শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছে। আফগানিস্তান একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের এবং মেয়ে শিশুদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তালেবান মহিলাদের জন্য চিকিৎসা প্রশিক্ষণও নিষিদ্ধ করে।


