বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে গত বুধবার এক সাক্ষাৎকার দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সেখানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিলজুলাই আন্দোলনে (দমন-পীড়ন) জড়িত হলে তারা শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের ক্ষমতা হারাতে পারে।’একইভাবে ১৮ বছর আগে অনেকটা একই ধরনের আরেকটি বার্তা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছিল। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ না নেয়া ও তা হতে না দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারী দলগুলো।
ওই বছরের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার পর ঢাকায় জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনাটা লক ডেসালিয়ান সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন-বাংলাদেশে যদি নির্বাচন (২২ জানুয়ারির নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি চিঠিও হাতে পাওয়ার কথা পরে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ পরে তার বইয়ে জানিয়েছিলেন। যদিও রেনাটা লক ডেসালিয়ান ওই চিঠির কথা অস্বীকার করেছিলেন।
২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র নিউইয়র্ক থেকে এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য বিশ্বসংঘটির পক্ষ থেকে কোনো কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য জাতিসংঘ ঢাকায় যে সমন্বয় অফিস খুলেছিল, সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। বান কি মুনের ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। পরে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনাটা লক ডেসালিয়ান। এর পর ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এর পরদিনই ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গঠন করা হয় ওয়ান-ইলেভেনের সরকার।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০০৭ সালের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এবারেরটা মরণ-বাঁচার সমস্যা ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার এমনকি সেনাবাহিনী, র্যা ব সবাই ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করছিল এবং তাদের হতাহত করছিল। এ অবস্থায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে সাবধান করা যে তারা যদি এর থেকে বিরত না থাকে তাহলে শান্তিরক্ষী মিশনে থাকার ব্যাপারে প্রভাব ফেলবেড়এতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেনি বলে আমার মনে হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন আর না ঘটে, সেটি থামানোর জন্যই এটি করা হয়েছিল।’


