যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তপাত সরিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল এক হয়েছে অস্কার মঞ্চে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীর সঙ্গে ইসরায়েলের এক সাংবাদিকের বন্ধুত্বের গল্প এরং ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম নিয়ে বানানো প্রামাণ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ জিতেছে অস্কার। সিএনএন লিখেছে, ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের মূল পরিচালক বেসেল আদ্রা নামের এক ব্যক্তি, যিনি ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তার শহরকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন। এতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারি, সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতন, বাস্তুহারানোর যন্ত্রণা, বেঁচে থাকার সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটার হলে রোববার সন্ধ্যায় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৭তম আসরে প্রামাণ্যচিত্র শাখায় সেরার পুরস্কার পেয়েছে ‘নো আদার ল্যান্ড’। যৌথভাবে অস্কার গ্রহণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রের দুই পরিচালক ফিলিস্তিনের অধিকারকর্মী বাসেল আদ্রা এবং ইসরায়েলের সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম। এই প্রামাণ্যচিত্রটির শুটিং হয়েছে ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত। শুটিংয়ের শেষ বছরে ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর কয়েকদিন আগে এটির নির্মাণ শেষ হয়।
প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ওই চার বছরে পশ্চিমতীরের মাসাফের ইয়াত্তা নামের একটি এলাকায় সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সেখানকার বাসিন্দাদের উৎখাত করে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেসব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দির কাজ করেছেন আদ্রা। ঘটনাচক্রে ইহুদি ইসরায়েলি সাংবাদিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আন্দ্রার, যিনি এই প্রামাণ্যচিত্র বানাতে আন্দ্রাকে সহযোগিতা করেছেন। অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন আন্দ্রা। গাজায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন আন্দ্রা। তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন এবং ইসারয়েলিরা একসঙ্গে এই সিনেমাটি বানিয়েছি। কারণ আমাদের মিলিত কণ্ঠস্বর আরো শক্তিশালী।”
প্রামাণ্যচিত্রটির আরেক পরিচালক ইসরায়েলি সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম বলেন, “গাজায় অবশ্যই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। এবং ২০২৩ সালের ৭অক্টোবরে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি দিতে হবে।” ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে আব্রাহাম বলেন, “জাতিগত আধিপত্য ছাড়াই রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে, যেখানে আমাদের উভয় জনগণের জন্য জাতীয় অধিকার থাকবে। এবং আমি এখানে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, পররাষ্ট্র নীতি এই পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।”


