‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে’ বলে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তার প্রস্তুতি নিতে তিনি নতুন প্রজন্মসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ শীর্ষক এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে এ কথা বলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ নামে এই কর্মসূচি করা হলেও কার্যত এর মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি দলটির অন্যতম লক্ষ্য। সমাবেশে প্রধান অতিথিসহ সব বক্তাই নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের সমালোচনা করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের পর এটি রাজধানীতে বিএনপির দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। এরই ভেতরে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে এবং বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।’
অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দেখেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যেই সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। সুতরাং অতীতে এই বাংলাদেশে রেকর্ড রয়েছে, তিন মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব।
কিন্তু আজ আমরা দেখছি, ১০ মাস পার হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করছে না। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি সরকার দ্রুত দেখতে চাই।’
সমাবেশে বিএনপি নেতা আমীর খসরু সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের ফলাফল নিয়ে বলেন — ‘এখন বলা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে নাকি ঐকমত্য হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য না হয়ে থাকলে সেটা করবে জনগণ। ভোট ও ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার সেই সংস্কার করবে।’
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ চেয়েছিলাম। আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি। পদত্যাগের নাটক দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ। গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য কথা বলা যদি অপরাধ হয়, সেই অপরাধ আমরা বারবার করতে পারব।’
তিনি আরো বলেন — ‘আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে সংগ্রাম করেছি, তারা নাকি কোনো কোনো দেশের এজেন্ট হয়ে গেছি। এগুলো কারা করছে, সেটি আমরা বুঝতে পারি। এ দেশে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে চায়।’


