২৭ মে মঙ্গলবার দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সিপিডির তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন — “দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তা না হলে কর্মসংস্থান হবে না; প্রবৃদ্ধি থেমে যাবে। দারিদ্র্য বেড়ে যাবে। এতে বৈষম্যও বাড়বে। তাই এখন নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়ার প্রয়োজন। সেটা ডিসেম্বর, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারি হোক। বিষয়টি হলো, সুনির্দিষ্ট সময় দেওয়া দরকার।”
সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের বিষয়ে সিপিডি-র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন — নির্বাচন হয়ে গেলেই বাংলাদেশ দ্রুত প্রবৃদ্ধির জগতে প্রবেশ করবে, তা কিন্তু নয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে হবে। ব্যাংকিং খাত, এনবিআরসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার হলেই কেবল বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগের জন্য গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে একদম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে গেছে, বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। ইতিমধ্যে ডিসেম্বর কিংবা জুনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে আগামী ৭ থেকে ১৩ মাসের ভেতরে নির্বাচন হচ্ছে।
তিনি বলেন — নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত যে বিনিয়োগ হবে না, তা নয়। গ্যাস সংকটের কারণে এখন বিনিয়োগ হচ্ছে না। আমাদের ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করা দরকার, বাপেক্সকে শক্তিশালী করে গ্যাস সংকট দূর করা দরকার। লজিস্টিক পলিসি বাস্তবায়ন দরকার। এগুলো করতে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষার দরকার নেই। এগুলো এখন না করলে নির্বাচনের পরও বিনিয়োগকারীদের এসব সংকট দূর করা যাবে না।
সিপিডি বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে দেশের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। আর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, আগামী বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকার ব্যর্থ হবে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। সিপিডি বলছে, মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নীতিগত অনুমোদনে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সরকারি ব্যয় বেড়ে যাবে।


