গতকাল বিএনপির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি লেখেন, “…একটি দলকে সন্তুষ্ট করার জন্য যদি প্রধান উপদেষ্টা (নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট) সময় বলতেন, তাহলে এর বাইরের সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষ অসন্তুষ্ট হতো। বিশেষত তখন যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে।” সামান্তা শারমিন আরও লিখেছেন, “(নির্বাচনের) সময় ঠিক হবে জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার রোডম্যাপ। বাংলাদেশের জনগণ জানবে কোন কোন বিষয়ে সব পক্ষ একমত হচ্ছে। যদি কোনো রাজনৈতিক দল প্রয়োজনীয় সংস্কারে একমত না হয়, তার ভিত্তিতে তার জনসমর্থন (ভোট) কমবে। তবে একমত হওয়া সংস্কারের পর সবাই নির্বাচনে সোৎসাহে অংশ নেবে।
বিশেষত কদিন আগে বলে ওঠা ‘এই সরকারের কোনো সংস্কার মানব না’ নেতাকে নিয়ে করা বৈঠকে এটুকু সাবধানতা দরকার বৈকি।” উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছিলেন, ওদের (অন্তর্বর্তী সরকার) হাতের, ওদের কলমের কোনো সংস্কার তাঁরা সহজে মানবেন না। সংস্কার করলে, তাঁরা সংশোধন করবেন। অন্যদিকে গতকাল সফররত মার্কিন কূটনীতিকদের সাথে আলোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ন্যূনতম সংস্কার নয়, আমরা এখানে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। কোনো ধরনের মৌলিক পরিবর্তন ছাড়া নির্বাচনের দিকে গেলে সে নির্বাচনটি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটাও বিবেচনাধীন থাকবে।’
নাহিদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি প্রশাসন আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ অবলম্বন করছে। অনেক জায়গায় এবং মাঠপর্যায়ে যে ধরনের চাঁদাবাজি চলছে, সেই জায়গায়ও মাঠ প্রশাসন আসলে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। আমরা বলেছি, যদি এ ধরনের একটা প্রশাসন থাকে, তাহলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন, আমলাতন্ত্র এবং পুলিশ আমাদের ঠিক করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া নির্বাচনের টাইমফ্রেম আমরা প্রাথমিকভাবে সমর্থন করছি, কিন্তু নির্বাচনের আগে অবশ্যই কি কি কাজ করে নির্বাচনে যেতে হবে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিচার, বিচারের রোডম্যাপ দেওয়া এবং সংস্কার ও জুলাই সনদ কার্যকর করা ইত্যাদি ব্যতীত নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বলে আসলে লাভ নেই।


