এত আলোচনা ও দাবির পরও জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নয়, কেন সেটি প্রাকৃতিক বৈরী মৌসুম জুন পর্যন্ত নিতে হবে, সেটা বুঝে উঠতে পারছে না বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এ নিয়ে সংশয়-সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। বিএনপি মনে করছে, নানাভাবে নির্বাচন বিলম্ব করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সে ঘোষণা না আসায় তাঁরা হতাশ। বৈঠকের তিন দিন পর এ বিষয়ে গতকাল দলীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাল বিএনপি। দলটি অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ (পথনকশা) ঘোষণার দাবিতে অনড় অবস্থানই প্রকাশ করেছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ‘নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য কিছু অসিলা তৈরি করা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যেমন একটা অসিলা হলো (আওয়ামী লীগের) বিচার শেষ করতে হবে। আমরাও তো বিচার চাই। এই আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে, তারা আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য কী করেনি!…এরপরও কেন প্রশ্ন আসে, আমরা তাদের বিচার চাইব না।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে বেশি তাদের (আওয়ামী লীগ) বিচার চায়। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বিচার হবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মধ্যে। স্বাধীন বিচারও চাইব, আবার চাইব অমুক দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে—এটা তো সাংঘর্ষিক। সে জন্য আমরা বলছি সংস্কার, নির্বাচন এবং বিচারের প্রক্রিয়া প্রতিটা আলাদা। এখানে সাংঘর্ষিক কিছু নেই। তাই তিনটা কাজই একসঙ্গে চলতে পারে এবং চলা উচিত।’ তাতে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে কোনো অসুবিধা নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরাও সংস্কার চাই। কিন্তু সংস্কার হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। ইচ্ছে করলেই অমুক দিন, অমুক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করা যাবে, এটি বলতে পারি না। ‘ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাস উপযুক্ত সময়, এখনো সেই কথার ওপরই আছি।’
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ডিসেম্বরের পর ফেব্রুয়ারিতে রোজা চলে আসবে। এরপর বর্ষা। এসএসসি ও এইচএসসির মতো বড় পাবলিক পরীক্ষাগুলো আছে। সে জন্য ওই সময়টা নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। বাধ্যবাধকতা থাকায় একটিমাত্র নির্বাচন জুনে (১৯৯৬ সালে) হলেও দেশে বাকি সব নির্বাচন ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার বিএনপির মিডিয়া সেলের অধীন ‘টক শো ডিসকাশন গ্রুপ’-এর রুদ্ধদ্বার মতবিনিময় সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন — নির্বাচন কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নয়, কেন সেটি জুন পর্যন্ত নিতে হবে। এর মধ্যে নিশ্চয়ই সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির তিন সংগঠনের উদ্যোগে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ নামে এটা করা হলেও এর মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি দলটির অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।


