জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাদের দলের মূল ফোকাস বর্তমানে নির্বাচনের সময়ের চেয়ে প্রেক্ষাপটের দিকে। তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর কোন প্রেক্ষাপটে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে পারি, সেটিই আমাদের মূল চিন্তা।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আলাদা জিনিস। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি ছাত্রদের পক্ষ থেকে আগেই উঠেছিল। আর জুলাই সনদ প্রধান উপদেষ্টা নিজেই ঘোষণা করেছেন। সংস্কারে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি চার্টার তৈরি হবে, যাতে দেশের সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হবে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সেই সংস্কারের ধারাবাহিকতা এবং জনগণের কাছে তাদের কমিটমেন্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে।
দলের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, নাহিদ ইসলাম জানান, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসা দরকার। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই সংস্কৃতিটা তৈরি হোক।” তিনি আরও বলেন, যদি কারা আর্থিক সহযোগিতা করে, তবে তাদের নাম প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যা এখনও দেশে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বের দাবিগুলোর কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা দ্রব্যমূল্য এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছি। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের আমরা কখনও সমর্থন করব না।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি একটি জনগণের দল, যা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাবে। দলের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য তারা রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের কাছে যাবে। এনসিপির আর্থিক পলিসি টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে আমরা একটি রাজনৈতিক আর্থিক পলিসি তৈরি করার চেষ্টা করছি, যাতে রাজনৈতিক দলটি সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।” সর্বশেষ নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখেছিল। বিচার এবং সংস্কারে আমাদের কমিটমেন্টের মাধ্যমে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাব।”
এছাড়াও ১০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার মাহফিল এবং ১১ মার্চ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের ঘোষণা দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। ১১ মার্চ ইফতার মাহফিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজন করা হবে, যেখানে কূটনীতিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।


