নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল ছিল ৫৫টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ৫টির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। নিবন্ধন স্থগিত আছে আওয়ামী লীগের।বিএনপিসহ ১০টি নিবন্ধিত দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। এই দলগুলো হলো — লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণফোরাম, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
সংস্কার এবং নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ দাবি করা জামায়াত বলছে, ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে নির্বাচন হোক। অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি বিচার-সংস্কার-নির্বাচনের রোডম্যাপ চাইছে। সংস্কার এবং বিচার দৃশ্যমান হওয়ার শর্তে গণপরিষদ নির্বাচন চায় দলটি।
নির্বাচনের দিনক্ষণ স্পষ্ট করতে রোডম্যাপ চায় নিবন্ধিত ৪টি দল। এরা হল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন ও এবি পার্টি। এই দলগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিরোধী নয়। আবার ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন হলেও আপত্তি নেই।
৬টি নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দল সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে সময়সীমা প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন, এতে তাদের আস্থা রয়েছে। তারা হলেন — জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং চব্বিশের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৮টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল দ্রুত নির্বাচন চায়। বাকি ১১ নিবন্ধিত দলের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি। ১২ দলীয় জোটসহ বিএনপির মিত্র আরও কয়েকটি অনিবন্ধিত দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে এসব দলের দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলো।
জাপান সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বৃহস্পতিবার নিক্কেই ফোরামের বক্তৃতায় বলেন, একটি মাত্র দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়। তিনি আবারও বলেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তাঁর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন — এক দল নয়; সবাই নির্বাচন চায়। শুধু একজন ব্যক্তি নির্বাচন চান না। তিনি হলেন অধ্যাপক ইউনূস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপদেষ্টা সমকালকে বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে; এক দিনও দেরি হবে না। এ নিশ্চয়তার পরও শুধু বিএনপিই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের চাপ দিচ্ছে। তারা সংস্কারের কথা বলে না। শুধু নির্বাচন চায়। অথচ সরকারের দায়িত্ব শুধু নির্বাচন নয়। সংস্কার এবং বিচারও। এই উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার না করে একটি দলের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান না তারা। সব দলই নির্বাচনের আগে সংস্কারের কথা বলছে। শুধু বিএনপি নির্বাচন নিয়ে পড়ে আছে।


