বয়সের সাথে সাথে মানুষের চেহারার বদল ও তার নিজের নাম গভীরভাবে সম্পর্কিত। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তি তার নামের সাথে যুক্ত সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সময়ের সাথে নিজের চেহারা পাল্টে নিতে পারে বা বাধ্য হয়। হিব্রু ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রুথ মায়োর দল নাম এবং মুখের বৈশিষ্টের মধ্যে যোগাযোগ অনুসন্ধান করতে মানুষ এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম দুভাবেই একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রফেসর রুথ মায়ো গবেষণা পত্রটি Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS) প্রকাশ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে শিশু, পরিণত মানুষ কিংবা মেশিন নাম বা চেহারা দেখে এর যে কোনোটাকে অপরটার সাথে মিলিয়ে নিতে পারছে। এবং যে হারে এটা ঘটে তা নিছক দৈবক্রমের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু শিশুদের মুখের বেলায় এটা কেউই আন্দাজ করতে পারছেনা। শেষ মজার পরীক্ষায় তারা শিশুদের চেহারাকে সফটওয়ার দিয়ে বয়স বাড়িয়ে অনুসন্ধান চালান। এই ক্ষেত্রেও এই বাচ্চাদের নামের সাথে চেহারা বা ছবির যোগাযোগ আন্দাজ করা যায়নি। মেশিন লার্নিং বিশ্লেষণ দেখছে, একই নামের মানুষদের চেহারার বৈশিষ্টের মিল অন্যদের তুলনায় বেশ বেশি, এবং এটাও শিশুদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
তার মানে এটা বয়স বা সময়ের সাথে ঘটে। ব্যক্তি ধীরে ধীরে চেহারার আদল পালটে নিজের অজান্তেই তার চারপাশের মানুষ তাকে যেভাবে দেখতে চায়, সেই রূপ নেয়। গবেষকরা বলছেন সামাজিক প্রত্যাশা বা চাপ আমাদের নিউরাল লিঙ্ককে প্রভাবিত করে এই ঘটনা ঘটায়। এই অনুধাবনটি আচরণ এবং ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য থেকে শারীরিক বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত বিকাশের উপর গভীর সামাজিক প্রভাবকে চিনিয়ে দিচ্ছে। গবেষণাটি ব্যাক্তির ছাঁচ, সামাজিক প্রত্যাশা ও বংশগত কারণের প্রভাব সম্পর্কে দীর্ঘদিনের চলে আসা বিতর্কে অবদান রাখবে।


