“বর্তমান শিক্ষক দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই এই নতুন শিক্ষাক্রম আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত নয়। যতদূর পারি আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাব। তবে এমনভাবে এটা করা হবে, যাতে যেসব শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাক্রমে আছে তাদের কোনো অস্বস্তি না হয়। এ জন্য পরিমার্জন করা হবে।“ – সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
ছাত্র শিক্ষক অনুপাত কমানো, শিক্ষকদের বেতন ও যোগ্যতা বাড়ানো, স্কুলে অবকাঠামোগত আয়োজন, সরকারি খরচে উপকরণ সরবরাহ, সর্বোপরি শিক্ষায় বাজেট বৃদ্ধি ছাড়া নতুন শিখনপদ্ধতি কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে সমালোচনা শুরু থেকেই ছিল।
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির জটিলতা, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ক্লাসরুমে কার্যক্রমভিত্তিক ধারাবাহিক মূল্যায়নে জোর দেওয়া, পাশ-ফেল অনেকক্ষেত্রে তুলে দেয়া বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় কতটুকু উপযোগী তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। দলগত কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদি আধুনিক পদ্ধতি হলেও তাতে সবার সমান অংশগ্রহণ ছিল না।
এ বছর থেকে পুরোদমে চালু হওয়া এ নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার ও বাতিল দু’রকম দাবিই ছিল।
বিজ্ঞান-গণিত-ইতিহাস এসব মৌলিক বিষয়ের গুরুত্ব কমিয়ে জীবন-জীবিকা, তথ্য-প্রযুক্তি ইত্যাদি কারিগরি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ায় সমালোচনা হয়েছে। বইয়ের বদলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল- ইন্টারনেট মুখী করা হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। প্রতিযোগিতা নিরুৎসাহিত করা ও পরীক্ষাভীতি দূর করার নামে পড়াশোনার তাগিদ কমে গেছে বলেও তারা মনে করেন।
নতুন পৃথিবীর দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি, জলবায়ু ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ জরুরি।
তবে তড়িঘড়ি করে নেয়া জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত জাতির জন্যে দীর্ঘ মেয়াদের বিপদ ডেকে আনবে।


