২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রবাসী শ্রমিকদের মৌলিক সমস্যাগুলো বাজেটে উপেক্ষিত থেকে গেছে।
বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১,২১৭ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৮৫৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা ২৫ শতাংশ হ্রাস। এই বরাদ্দ হ্রাসের ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাজেটে জেলা পর্যায়ে ৭০টি এবং উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) শক্তিশালীকরণ এবং ৫০টি নতুন TTC নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি জেলায় চালু হওয়া এক্সিট ক্লিয়ারেন্স সেবা দেশব্যাপী বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতারিত শ্রমিকদের জন্য ডিজিটাল অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও চালু করা হবে। জেলা পর্যায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল চালু করার পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বাজেটটি প্রবাসী শ্রমিকদের মৌলিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করেছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “বিদেশগামী শ্রমিকরা বহুমাত্রিক সংকটে রয়েছেন, যা বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ার দরকার ছিল।” তিনি আরও বলেন, “সরকার যেন রেমিট্যান্স আদায়েই আগ্রহী, কিন্তু শ্রমিকদের কল্যাণে নয়।
অভিবাসন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “সরকার শ্রমিকদের উন্নয়নে যথাযথ তহবিল বরাদ্দ করেনি। কাঠামোগত জটিলতা কমানোই তাদের সবচেয়ে বড় চাহিদা।” তিনি আরও বলেন, “যেটুকু সুযোগ সুবিধা আছে তা মূলত শ্রমিকদের নিজেদের অর্থেই পরিচালিত — যেমন, ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সেবা বা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। এই ব্যাংকটি সরকারের তহবিলে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং এর শাখা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ হওয়া প্রয়োজন।”
অনেকে আশাবাদী ছিলেন, এবারের বাজেটে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বাড়বে। কিন্তু তা অপরিবর্তিত ২.৫ শতাংশই রাখা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, হুন্ডির চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক হার না দিলে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী হবেন না।
সার্বিকভাবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন উদ্যোগ বা বরাদ্দ না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


