“ … বিগত সরকার দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই গতিমুখ থেকে দেশটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ওপর আমার এখনো আস্থা বা ভরসা আছে। অন্য শাসকদের মধ্যে ক্ষমতার পাশাপাশি যেমন অর্থবিত্তের লোভ দেখা গেছে, তাঁর মধ্যে সেই অর্থবিত্তের লোভ নেই বলেই আমার ধারণা। তবে তিনিও মানুষ, তাঁরও ভুল হতে পারে। ভুল হলে তা সংশোধন করে তিনি বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবেন, একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে আমি সেটাই মনে করি। … আমার বিবেচনায়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এক-দুটি ছাড়া বেশির ভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্ত আমাদের সত্যিই হতাশ করেছে।… পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। এ বিষয়গুলো আমার কাছে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের একটি নেতিবাচক ফলাফল বলে মনে হচ্ছে।
… বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন সব সময়ই ছিল। এটা হুট করে বেড়ে গেছে, তেমনটা বলা যাবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং রক্ষণশীল ধর্মীয় গ্রুপগুলোর কর্মকাণ্ডে নারীদের মধ্যে একধরনের ভীতি দেখা যাচ্ছে। গণ–অভ্যুত্থানের পরও এ রকম পরিবেশ তৈরি হওয়া একটা দুঃখজনক বিষয়। … কিছু কিছু গ্রুপ যে রকম আচরণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তারা ধারাবাহিকভাবে এ রকম কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে না। আমরা তাদের ‘মব’ বলে অভিহিত করছি; কিন্তু এ ধরনের মবেরও একটা আইডেন্টিটি (পরিচয়) রয়েছে। তাদের সেই পরিচয় উদ্ঘাটন করা এবং জরুরি ভিত্তিতে থামানো সরকারের এখন অন্যতম দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
… বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে আমরা দুটি দলের প্রাধান্য দেখেছি। পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব—তাদের মধ্যে এ বিষয়গুলো আমরা লক্ষ করেছি। ফলে নতুন একটি দল, বিশেষভাবে তরুণদের দলকে আমি স্বাগত জানাই। তবে নতুন দলেও কিছু পুরোনো প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের আনুকূল্য পাওয়া এবং সম্পদশালীদের কাছ থেকে দলের জন্য টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে কথাবার্তা উঠেছে, তাতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি, এসব বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। ”


