গতকাল রাজনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত বিএনপির ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেছেন – “আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, ধর্মীয় উগ্রবাদীদের অপতৎপরতা ও চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিলে উগ্রবাদী জনগোষ্ঠি এবং পরাজিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের কবর রচনা করবে। অপর দিকে গণতান্ত্রিক বিশ্বের ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।”
‘দেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চরিত্র সমুন্নত রাখতে চরমপন্থা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদী অপশক্তিকে প্রতিহত করার পাশাপাশি গণহত্যাকারী পলাতক মাফিয়া চক্রকে যেকোনো মূল্যে বিচারের সম্মুখীন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই হবে বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির আগামী দিনের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত,’ বলেন তিনি।
গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধু শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতিকেই নয়; বরং বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকেও ধ্বংস করে দিয়েছে বলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে ধর্মীয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও মূল্যবোধ যদি নষ্ট করে দেওয়া যায়, তখনই সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, অমানবিক হয়ে ওঠে। ভঙ্গুর রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিকাশের এক উর্বরভূমিতে পরিণত হয়।
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের নিরাপত্তাহীন রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি নিয়ে বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা, এমনকি দু-একটি রাজনৈতিক দলকেও জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ইদানীং কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলতে শোনা যায়। জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের নামে গৌণ ইস্যুকে মুখ্য করে অকারণে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা হলে, সেটি জনমনে ভুল বার্তা পৌঁছাবে।
তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান


