বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত পোশাকের কদর বাড়ছে। ফ্যাশনদুরস্ত নতুন পোশাকের চেয়ে পুরোনো পোশাকের বাজার বাড়ছে দ্রুত হারে। ধারণা করা হচ্ছে, পোশাকের মূল বিশ্ববাজার অর্থাৎ নতুন পোশাকের বৈশ্বিক ফ্যাশন বাজারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে পুরোনো পোশাক। একটি অসমর্থিত হিসাবে, আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হতে পারে পুরোনো কাপড়ের বিশ্ববাজার। জেনারেশন জেড (জেন জেড) প্রজন্মের ভোক্তারা বেশি হারে ব্যবহৃত পোশাক কেনাকাটা করছেন বা কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। জেন জেড প্রজন্ম হচ্ছে ১৯৯৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যাদের জন্ম। তাদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগজনিত পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং এ সম্পর্কিত অর্থনৈতিক ভাবনা রয়েছে।
এই জেন জেড প্রজন্ম অন্যান্য পণ্যের মতো বস্ত্র ও পোশাকের বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমানো এবং উৎপাদন কাজে কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন উৎপাদন নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহৃত পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ফ্যাশন শিল্প পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দূষণকারী সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের ৮-১০% অংশ জুড়ে রয়েছে। পোশাকের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ পানি, শক্তি এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।এছাড়া, ফাস্ট ফ্যাশনের কারণে দ্রুত নতুন পোশাক তৈরি ও ব্যবহৃত পোশাকের ফেলে দেয়ার প্রবণতা আরও বেশি ক্ষতিকর হিসেবে কাজ করছে।
এমন প্রেক্ষাপটে, সারা বিশ্বে সাস্টেইনেবল ফ্যাশন মুভমেন্টের অংশ হিসেবে “থ্রিফট শপিং” বা ব্যবহারকৃত পোশাক কেনাবেচা অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি মূলত ফ্যাশন শিল্পে এক ধরনের পুনর্ব্যবহারের ধারণা প্রচলিত করেছে। ফেসবুক পেইজ এবং অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেও থ্রিফট শপিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম এই অনলাইন থ্রিফট পেইজগুলোতে প্রচুর সক্রিয় এবং নতুন নতুন আইটেম খুঁজে পেতে আগ্রহী। চাহিদা বাড়ায় ব্যবহৃত পোশাকের বিপণন নেটওয়ার্কে নিত্যনতুন বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠছে। আগামীতে পুরোনো কাপড়ের আরও নতুন ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম দেখা যেতে পারে। কম খরচে ভালো মানের পোশাক পাওয়ার সুবিধা, পরিবেশ সচেতনতা ও অনলাইন মার্কেটিং এর বিস্তৃতির কারণে মূলত ব্যবহৃত পোশাকের বাজার দ্রুত বাড়ছে।


